স্বামীবাগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপিত
রাজধানীর স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো শুভ জন্মাষ্টমী। সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান।
দিনাজপুর: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তীব্র শিক্ষক ও কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে। প্রধান শিক্ষক ও নৈশপ্রহরীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় একদিকে যেমন বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে, অন্যদিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ীতে মোট ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক আছেন মাত্র ৩৭টিতে। বাকি ৭২টি বিদ্যালয়েই কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। ২০১৭ সালের পর থেকে এসব শূন্য পদে নতুন নিয়োগ না হওয়ায় সহকারী শিক্ষকদের দিয়েই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন মিটিং, উপবৃত্তির কাজ এবং সরকারি নানা হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত কাজে প্রায়ই উপজেলা শিক্ষা অফিসে ছুটতে হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা এসব প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিয়মিত ক্লাসে পাঠদান করাতে পারছেন না। এর ফলে ৭২টি বিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এছাড়া উপজেলার বিদ্যালয়গুলো নিয়মিত তদারকি ও পরিদর্শনের জন্য তিনজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। একটি পদ শূন্য থাকায় মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং ও শিক্ষকদের পাঠদান মূল্যায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উপজেলার ১০৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮০টিতেই নেই কোনো নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরি। দীর্ঘদিন ধরে এই পদগুলো শূন্য থাকায় রাতের বেলা বিদ্যালয়গুলো সম্পূর্ণ অরক্ষিত থাকছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপত্তার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাতের আঁধারে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে সরকারের দেওয়া মূল্যবান ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম এবং বৈদ্যুতিক ফ্যান চুরির মতো ঘটনা ঘটছে। এতে সরকারি সম্পদের অপচয় হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমেও বড় ধরনের ধাক্কা লাগছে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি এসএক মোহাম্মদ আলী দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যারা ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে সহকারী শিক্ষক হিসেবে সততার সঙ্গে চাকরি করছেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের পদোন্নতি না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা সামগ্রিক প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমানকে ব্যাহত করছে।’
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহসিন আলী জানান, সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। তবে শূন্যপদের তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। আইনি জটিলতা কেটে গেলে নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সংকটের দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।