শিলিগুড়ি করিডোর ও নেপাল সীমান্তসংলগ্ন চার লেন মহাসড়ক প্রকল্প।
আন্তর্জাতিক: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর ও নেপাল সীমান্তসংলগ্ন মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে ২ হাজার ৭৭ কোটি রুপি অনুমোদন করেছে ভারত সরকার। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভারতের কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকড়ির ঘোষণার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
দার্জিলিং জেলার ৩১ দশমিক ০২ কিলোমিটার দীর্ঘ বাগডোগরা-পানিট্যাঙ্কি-খড়িবাড়ি-গলগলিয়া সড়ক অংশে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় তিনটি বড় সেতু, একটি ফ্লাইওভার বা রেলওয়ে ওভারব্রিজ (আরওবি), পাঁচটি হাতি চলাচলের আন্ডারপাস এবং সড়কের দুই পাশে সার্ভিস রোড নির্মাণ করা হবে।
নিতিন গডকড়ি জানান, প্রকল্পটি নেপাল সীমান্তের কাছের গলগলিয়া থেকে শুরু হয়ে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে জাতীয় মহাসড়ক-২৭-এর সঙ্গে যুক্ত হবে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও উন্নত হবে।
এদিকে বাগডোগরা বিমানবন্দরেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন চলছে। ব্যস্ত সময়ে প্রায় ৩ হাজার যাত্রী সামলানোর সক্ষমতা তৈরি করতে সেখানে নতুন গ্রিন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ১০টি ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
নিতিন গডকড়ির মতে, শিলিগুড়ি করিডোরের অবস্থানগত গুরুত্বের কারণে এই মহাসড়ক প্রকল্প উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ও পানিট্যাঙ্কি এলাকার যানজট কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের চা ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও গতি আসতে পারে।
দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য রাজু বিস্টা প্রকল্পটির অনুমোদনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই মহাসড়ক এশিয়ান হাইওয়ে-২ (এএইচ২)-এর অংশ হিসেবে ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ফুলবাড়ীকে যুক্তকারী ৩৮ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক করিডোরকে আরও শক্তিশালী করবে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশটির মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের ক্ষেত্রে শিলিগুড়ি করিডোরকে কৌশলগত ‘লাইফলাইন’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরু এই ভূখণ্ডটি ‘চিকেনস নেক’ নামেও পরিচিত।
এই করিডোরের নিরাপত্তা ও যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ভারত সরকার একাধিক বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেললাইন, চার লেনের রেল ট্র্যাকিং এবং শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী পর্যন্ত হাইস্পিড রেল করিডোর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
নতুন চার লেনের মহাসড়ক প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শিলিগুড়ি করিডোরের সড়ক যোগাযোগ, সীমান্ত বাণিজ্য ও আঞ্চলিক পণ্য পরিবহনে এর প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।