মৃত্যুর আগের দিন এফডিসিতে ঠিক কী ঘটেছিল? সালমান শাহর জীবনের শেষ স্মৃতি
সালমান শাহর মৃত্যুর আগের দিন ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এফডিসিতে শাবনূরের সঙ্গে ডাবিং ও স্ত্রী সামিরার সঙ্গে মনমালিন্য নিয়ে অজানা সব তথ্য।
বিনোদন: বড় পর্দা কিংবা ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক ভিত্তিহীন গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানোর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। মৃত্যুর ভুয়া খবর, অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার মিথ্যা ঘোষণা থেকে শুরু করে শুটিংয়ের স্থিরচিত্র বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মনগড়া তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে শিল্পীদের হেয় করা হচ্ছে। এসব কাণ্ডে খোদ শিল্পীরাই বেশিরভাগ সময় কিছু জানেন না, যার ফলে তাঁরা চরম বিব্রত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি ও অভিনয়শিল্পী সংঘের নেতারা বলছেন, গুজবের এই দৌরাত্ম্যের কাছে মামুনুর রশীদ, ইলিয়াস কাঞ্চন, পপি থেকে শুরু করে দিলারা জামানের মতো বরেণ্য শিল্পীরাও আজ অসহায়।
গত ২৬ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন এই অভিনেতার মৃত্যুর খবরটি মুহূর্তেই ভাইরাল হলে ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, খবরটি সম্পূর্ণ ভুয়া ছিল। নিসচার পক্ষ থেকে জানানো হয়, যাচাই না করে স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করা সম্পূর্ণ অনৈতিক।
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা হাসান মাসুদের একটি ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হয়েছিল যে তিনি আর কখনো অভিনয় করবেন না এবং পুরোপুরি ধর্মচর্চায় মনোনিবেশ করবেন। এই খবরে সহকর্মীরাও মর্মাহত হন। পরবর্তীতে হাসান মাসুদ নিজেই স্পষ্ট করেন যে, ভালো চরিত্র পেলে তিনি বরাবরের মতোই অভিনয় চালিয়ে যাবেন, তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপিও। তাঁর নাম ব্যবহার করে একটি ভুয়া ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, অভিনয়কে ‘পাপ’ মনে করে তিনি জগৎ ছেড়ে দিচ্ছেন। পরবর্তীতে তা পুরোপুরি গুজব বলে প্রমাণিত হয়।
সম্প্রতি প্রবীণ অভিনেতা মামুনুর রশীদের একটি ধারাবাহিক নাটকের সুইমিংপুলের দৃশ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে অনলাইনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। যা নিয়ে বেশ বিব্রত হন এই বরেণ্য অভিনেতা। এই রেশ কাটতে না কাটতেই অভিনেত্রী দিলারা জামানের বাড়ি দখল হয়ে যাওয়ার বানোয়াট খবর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অথচ এই খবরের সঙ্গে তাঁর বাস্তব জীবনের কোনো মিলই ছিল না। এছাড়া অভিনেতা এজাজের ছবি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু বলেন, “এভাবে আমাদের শিল্পীরা নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে পুরো শিল্পীসমাজকে ছোট করা হচ্ছে।”
এদিকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী জানিয়েছেন, শিল্পীদের মানহানির এসব ঘটনার বিরুদ্ধে তাঁরা কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। খুব শীঘ্রই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বসে শক্ত হাতে এসব অপপ্রচার নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও জানান তিনি।