মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের শঙ্কায় বাড়ছে তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা ও হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ঝুঁকিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ৯৭.৩৪ ও WTI ৯২.৬৩ ডলারে।
আন্তর্জাতিক: পরবর্তী প্রজন্মের ৬জি টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক উদ্যোগে যোগ দিয়েছে ভারত। ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ টেলিকম নেটওয়ার্কের বৈশ্বিক মান নির্ধারণে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে নয়াদিল্লির জন্য।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) টাইমস নাউয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৫টি দেশের অংশগ্রহণে গঠিত এই উদ্যোগে ভারতের অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ। জি২০ উদ্ভাবন মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক ও ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সোমবার এ ঘোষণা আসে।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, অংশীদারিত্বটির প্রধান লক্ষ্য হলো এমন ভবিষ্যৎ টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যা অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর যৌথ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার ফলে ৬জি প্রযুক্তির বৈশ্বিক মান ও প্রযুক্তিগত কাঠামো নির্ধারণের আলোচনায় ভারত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে।
৫জি প্রযুক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে বিবেচিত ৬জি নেটওয়ার্কে আরও বেশি গতি, কম লেটেন্সি, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর যোগাযোগ এবং ব্যাপক সংযুক্তির মতো প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। ফলে এই প্রযুক্তির মান ও নিরাপত্তা কাঠামো নির্ধারণে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উত্তর ক্যারোলিনার চ্যাপেল হিলে গত ১ ও ২ সেপ্টেম্বর জি২০ উদ্ভাবন মন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জিতিন প্রসাদ। প্রতিনিধি দলে ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের (MeitY) যৌথ সচিব অজিত কুমারসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং শিল্প পুনর্গঠন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।
বৈঠক শেষে সদস্য দেশগুলো একটি যৌথ বিবৃতি দেয়। এতে উদীয়মান প্রযুক্তি কীভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, নতুন সুযোগ ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করতে পারে, সে বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
৬জি উদ্যোগে ভারতের অংশগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। এর আগে দুই দেশ সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো কৌশলগত খাতে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, ৬জি প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বৈশ্বিক মান নির্ধারণে ভারত এখন থেকেই সক্রিয় অংশীদার হতে পারলে দেশটির প্রযুক্তি খাত, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ ডিজিটাল অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই উদ্যোগে ভারতের অন্তর্ভুক্তি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য টেলিকম অবকাঠামো গড়ে তোলার বৃহত্তর কৌশলগত প্রচেষ্টার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।