হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন না করে রাষ্ট্রের অর্থ সাশ্রয় এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে থার্ড টার্মিনাল চালু করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন থার্ড টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ তথ্য জানান।
একই সঙ্গে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করার পাশাপাশি টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি কার্যকর হওয়ার বিষয়েও নিশ্চিত করেন তিনি।
১৯৮১ সালে তৈরি বিমানবন্দরটির নাম তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে ‘জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১০ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ করা হয়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিমানবন্দরটির নাম আবারও পরিবর্তন হবে কি না তা নিয়ে গুঞ্জন ওঠে।
বিষয়টি স্পষ্ট করে বিমান পরিবহনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন:
“জনগণের টাকা অতিরিক্ত খরচ করে একটি বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করতে গেলে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা লাগে। কারণ আন্তর্জাতিক সব এয়ারপোর্টে এই নাম নতুন করে আপডেট করতে হয়। কাজেই সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনা করে অহেতুক নাম পরিবর্তনের চেয়ে আমরা দ্রুত সেবার মান নিশ্চিত করতেই বেশি মনোযোগী।”
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জানান, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে একটি সফট লঞ্চিংয়ের মাধ্যমে টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে দিনে আনুমানিক ২০টি ফ্লাইট চলাচলের মাধ্যমে এটি পারশিয়ালি উন্মুক্ত করা হবে এবং আগামী ২০২৭ সালের মার্চ-এপ্রিল নাগাদ এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে। এরই মধ্যে প্রকল্প ঋণের প্রায় ১১০০ কোটি টাকার কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে।
এছাড়া টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান:
জাপানের সঙ্গে চুক্তি: জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনার পর মঙ্গলবার থেকেই পরিচালনা সংক্রান্ত চুক্তি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
রাজস্ব মডেল: থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার অর্জিত আয়ের ২৭ শতাংশ বাংলাদেশ পাবে এবং বাকি অংশ দিয়ে জাইকার (JICA) ঋণ শোধ করা হবে।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং: থার্ড টার্মিনালের ৫০ শতাংশ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পালন করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’। পাশাপাশি যাত্রীরা যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যাগেজ হাতে পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।