সারাদেশ

নিজ ঘরেই সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ নারী, বাড়ছে পারিবারিক সহিংসতা

সমাজ ও পরিবারের চিরন্তন ধারণা অনুযায়ী একজন নারীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হলো তাঁর নিজস্ব ঘর—ক্লান্তি শেষে যেখানে একটু শান্তিতে মাথা গোঁজার কথা। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ও বাস্তবতা বলছে উল্টো কথা। ঘরের বাইরে নয়, বরং নিজ গৃহেই নারীরা সবচেয়ে বেশি পারিবারিক সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, যা ঘরের নিরাপত্তাকে চরম সংকটে ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনের প্রোগ্রেসিভ ধারাসমূহ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও প্রয়োগের ব্যর্থতা এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে এই অপরাধ দমানো যাচ্ছে না।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি নির্মম ঘটনা পারিবারিক সহিংসতার ভয়াবহ রূপ ফুটিয়ে তুলেছ

৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর খিলক্ষেতে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের পর মুক্তা ইসলাম মাওয়া নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুল।

বছরের ১৭ মে গাজীপুরে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পরিবারের চার সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করে ফোরকান নামের এক ব্যক্তি।

মানবাধিকার সংস্থা ও চলতি বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আট মাসে প্রায় ৪ শত নারী ও কন্যাশিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের শিকার হয়েছেন প্রায় ৪৫০ জন। এর পাশাপাশি অন্তত ১,৮০০ জন নারী ও শিশু সরাসরি পারিবারিক সহিংসতার মুখে পড়েছেন, যা অনেককে বাধ্য করছে আত্মহনন বা ঘর ভাঙার মতো সিদ্ধান্ত।

নারী অধিকারকর্মী ও গবেষকদের মতে, ২০০০ সালের ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ অনুযায়ী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আইনি বিধান রয়েছে। তবে বাস্তবে বিচারক স্বল্পতা এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বিচার বছরের পর বছর ঝুলে থাকে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেত্রী ডা. ফৌজিয়া মুসলিমের মতে:

“ঘরে, কর্মক্ষেত্রে কিংবা রাস্তায়—কোথাও আজ নারীর নিরাপত্তা নেই। আইনের অভাব নেই, অভাব হলো এর সঠিক প্রয়োগের। বিচারিক অবকাঠামোর ব্যর্থতাই অপরাধীদের পার পাইয়ে দিচ্ছে।”

আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন:

“সমস্যার মূল উৎপাটন করতে হলে বিচারিক কাঠামোর ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালগুলোকে জেলা পর্যায় থেকে উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ, বিচারক নিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।”

পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে আইনের কঠোর বাস্তবায়ন, অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সমাজ ও পরিবারে নারীর সামাজিক মর্যাদা ও সম্মান পুনরুদ্ধারে জোরালো প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Related News

বরিশালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা, ৫ প্রতিষ্ঠানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা

রিশালের আমতলার মোড়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় ৫ প্রতিষ্ঠানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন বিসিসি ম্যাজিস্ট্রেট।

বরিশালের চৌমাথা বাজারে মোবাইল কোর্টের অভিযান, ১২ হাজার টাকা জরিমানা

বরিশালের চৌমাথা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অনিয়মের দায়ে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যু: নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি বাবার

বাসা থেকে ডেকে নেওয়ার পর নিখোঁজ সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউফের লাশ উদ্ধার। একে হত্যাকাণ্ড দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন তাঁর বাবা।

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ২০২৬ পালিত

মো: জিয়াউদ্দিন বাবু বুধবার সকালে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক উপমা ফারিসা বেলুন উড়ানোর মাধ্যমে হাত…

বরিশালে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপিত, ৩৭ পরিবারকে ৯৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ

বরিশালে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও নিহত-আহতদের মাঝে ৯৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ। বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজন।

ক্লিনিক পরিচালকের ফাঁসির দাবিতে লালমনিরহাটে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ

লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্লিনিক পরিচালক ইউসুফ আলীর ফাঁসির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সারের সংকটে সড়কে কৃষক, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারে সার বিক্রির অভিযোগ

লালমনিরহাটে সারের তীব্র সংকটে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। হাতীবান্ধায় ডিলারদের বিরুদ্ধে কালোবাজারে সার বিক্রির গুরুতর অভিযোগ।

১৫ বিজিবির মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্যসহ ০১ জন আটক

লালমনিরহাটে ১৫ বিজিবির বিশেষ অভিযানে ভারতীয় গাঁজাসহ শ্রী শ্যামল কুমার নামে এক ব্যক্তি আটক। মোগলহাট ও গোড়কমন্ডল বিওপির পৃথক অভিযান।

Search