ডিবি হারুন ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভাইকে ১,৮৫০ শতাংশ জমি হেবা করেছেন। তদন্তে ১৮ কোটি টাকার জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ পেয়েছে দুদক।
নরসিংদী: সৌদিপ্রবাসী মেজ জামাতার দেশে আগমন উপলক্ষে তিন মেয়ের পরিবারকে পরম আনন্দে বাড়িতে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন অটোরিকশাচালক মজিবুর রহমান ওরফে সুখচাঁন। কিন্তু আনন্দঘন পারিবারিক মিলনমেলা মুহূর্তেই পরিণত হলো বিভীষিকাময় শোকের মাতমে। নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামের অদূরে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে ত তলিয়ে গেছেন একই পরিবারের স্বজনেরা।
নদীতে তলিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বাঁচাতে গিয়ে সৌরভ মিয়া (১৮) নামের এক স্থানীয় তরুণসহ এ পর্যন্ত ৩ জনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। নিখোঁজের ৪৫ ঘণ্টা পার হলেও এখনো সন্ধান মেলেনি পরিবারটির এক নাতির।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সৌদিপ্রবাসী মেজ জামাতা ওবায়দুল্লাহর ছুটি শেষের দিকে হওয়ায় এবং ছোট জামাতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) তিন মেয়েকে নিজ ভিটায় নিমন্ত্রণ জানান সুখচাঁন। জুমার নামাজের পর একত্রে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পরিবারের ছয় সদস্য পার্শ্ববর্তী শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে যান।
গোসলের একপর্যায়ে নদীর তীব্র স্রোতে ৫ জন পানিতে তলিয়ে যান। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে শিশুসন্তানসহ মেজ মেয়ে শাহীনুর আক্তারকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও বাকিরা তলিয়ে যান। স্বজনদের “বাঁচাও বাঁচাও” আকুতি শুনে উদ্ধার কাজে ঝাঁপ দিয়ে নিজে নিখোঁজ হন প্রতিবেশী তরুণ সৌরভ মিয়া।
উদ্ধারের পরিসংখ্যান ও প্রাণহানির তালিকা
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিনভর অভিযানে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
মেজ জামাতা (সৌদিপ্রবাসী), বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জে। (মরদেহ উদ্ধার)
ছোট মেয়ে, বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ার ফুলবাড়িয়া। (মরদেহ উদ্ধার)
উদ্ধার করতে আসা সাহসী তরুণ, বাড়ি শিবপুরের লাখপুর গ্রামে। (মরদেহ উদ্ধার)
মৃত বড় মেয়ের একমাত্র ছেলে (মাস্টার্স পরীক্ষার্থী)। (এখনো নিখোঁজ)
শুক্রবার দুপুরে পারিবারিক নিমন্ত্রণ ➔ সাড়ে ৩টায় শীতলক্ষ্যায় গোসল ➔ ৫ জন পানিতে নিমজ্জিত
↓
শাহীনুর ও শিশু উদ্ধার | ৪ জন নিখোঁজ
↓
শনিবার ডুবুরি দলের অভিযানে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার
↓
ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত (১ জন নিখোঁজ)
স্বজনদের আহাজারি ও দাফন সম্পন্ন
বাড়ির তিনজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন অটোরিকশাচালক সুখচাঁন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “এত কইরা কইলাম নদীত যাওয়ার দরকার নাই। আমার কতা শুনল না। এখন তিন মাইয়ার ঘরে তিনজন নাই। বড় মাইয়ার পোলডারে ছোটত্তে মানুষ করছি, হেও নাই। গত বছর বিয়া দেওয়া মাইয়া আর জামাইও নাই। এত কষ্ট কেমনে সহ্য করমু?”
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কোহিনুর মিয়া জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আবেদন সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই উদ্ধারকৃত তিনজনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইতিপূর্বে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিখোঁজ শান্তকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও ফায়ার সার্ভিস কর্মী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।