ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী বিএনপি’র বিশেষ সচেতনতা অভিযান ও প্রচারপত্র বিতরণের সিদ্ধান্ত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকাসহ সারা দেশে সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণের সিদ্ধান্ত বিএনপির। ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের তারিখ ঘোষণা।
জাতীয় সংসদ: বিগত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দৃশ্যমান সমীকরণ স্পষ্ট—বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ও সভাপতি পদের সোচ্চার দাবি তুললেও, ক্ষমতায় গিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আন্তরিক উদ্যোগ নেয়নি কোনো রাজনৈতিক দলই।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনেও এই পুরোনো বিরোধ পুনরায় সামনে এসেছে। জুলাই জাতীয় সনদের রূপরেখা অনুসরণে বিরোধী দল মোট ১৪টি সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ দাবি করলেও, শেষ পর্যন্ত তাদের ভাগ্যে জুটেছে কেবল মাত্র ১টি পদ।
চলতি সংসদে গঠিত মোট ৫০টি স্থায়ী কমিটির (১১টি বিষয়ভিত্তিক ও ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত) মধ্যে একমাত্র ‘সরকারি হিসাব কমিটি’-র সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে।
বিরোধী দলের দাবি: জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী ১০টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটিসহ মোট ১৪টি কমিটির সভাপতি পদ দেওয়া।
সরকারি দলের অবস্থান: সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধি না থাকার অজুহাত তুলে ঐতিহ্যগত রীতির কথা বলছে ক্ষমতাসীন দল। সংবিধান সংশোধন হলে প্রস্তাব বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও আপাতত কণ্ঠভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মোট গঠিত কমিটি ৫০টি (বিষয়ভিত্তিক: ১১, মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত: ৩৯)
বিরোধী দল দাবি করেছিল ১৪টি সভাপতি পদ (জুলাই সনদের আলোকেই)
বিরোধী দল শেষ পর্যন্ত পেয়েছে ১টি সভাপতি পদ (সরকারি হিসাব কমিটি)
১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মন্ত্রীদের সভাপতি হওয়ার বিধান বাতিল করে বেসরকারি সংসদ সদস্যদের সভাপতি করার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিলেও, বিরোধী দল বিএনপির আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ও সদস্য বৃদ্ধির দাবি মেনে নেয়নি। এর প্রতিবাদে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দীর্ঘদিন সংসদ বর্জন করে। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে রাজনৈতিক সমঝোতায় বিএনপি ১১১টি সদস্যপদ পেলেও কোনো কমিটির সভাপতি পদ পায়নি।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভূমিকা অদলবদল হয়। তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ আসনসংখ্যার অনুপাতে ১০টি কমিটির সভাপতি পদ দাবি করে। কিন্তু বিএনপি যুক্তি দেখায়—সপ্তম সংসদে তাদের ১১৬ জন সংসদ সদস্য থাকা সত্ত্বেও কোনো সভাপতি পদ দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে দীর্ঘ বয়কট শেষে ২০০৪ সালে কমিটিতে যোগ দিলেও কোনো সভাপতি পদ মেলেনি আওয়ামী লীগের।
সপ্তম সংসদ (আওয়ামী লীগ মোদ) বিএনপি আসনসংখ্যার অনুপাতে আনুপাতিক সদস্য ও পদ চেয়ে বর্জন করে।
অষ্টম সংসদ (বিএনপি মেয়াদ) আওয়ামী লীগ আসনসংখ্যার অনুপাতে ১০টি সভাপতি পদ দাবি করে বর্জন করে।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপি থেকে ২টি এবং অন্যান্য বিরোধী দল থেকে ১টি সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়।
বিরোধী দল থেকে ১টি কমিটির সভাপতি করা হয়।
সরকারি হিসাব কমিটিসহ মোট ৪টি কমিটির সভাপতি পদ দেওয়া হয়েছিল বিরোধী দলকে (যার মধ্যে ছিল প্রবাসীকল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটি)।
আইন প্রণয়ন এবং নির্বাহী বিভাগ তথা সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিতে স্থায়ী কমিটিগুলোর ভূমিকা অপরিসীম।
সংসদবিষয়ক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ এ প্রসঙ্গে বিশ্লেষণ করেন—
“সরকারি দলের সংসদ সদস্য সভাপতি হলে সাধারণত তারা মন্ত্রণালয়ের স্পর্শকাতর অনিয়ম বা স্পর্শকাতর বিষয়গুলো আলোচনায় আনতে চান না। বিরোধী দল থেকে আনুপাতিক হারে সভাপতি করা হলে সংসদীয় তদারকি জোরদার হয় এবং নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হয়। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে বর্তমান সংসদীয় টানাপোড়েন ও দলগুলোর দূরত্ব অনেকটাই কমে আসত।”
সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধিতে আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় এবং সংসদে কণ্ঠভোটে সিদ্ধান্ত হওয়ায় চূড়ান্ত কর্তৃত্ব সব সময়ই সংখ্যাগুরু সরকারি দলের হাতেই থেকে যাচ্ছে।