তুরস্কের মারদিনে ইসলাম গ্রহণ করলেন দক্ষিণ কোরীয় পর্যটক
তুরস্কের ঐতিহাসিক শহর মারদিন পরিদর্শনের সময় ইসলাম গ্রহণ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার এক পর্যটক। নতুন নাম হিসেবে তিনি ‘আবদুল্লাহ’ গ্রহণ করেছেন।
আন্তর্জাতিক: পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশ অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেঙ্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার বিমান, মহাকাশ ও সাইবার সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রয় মেঙ্ক বলেন, শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে কক্ষপথে এ ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করা প্রয়োজন ছিল। তবে কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে কিংবা সেগুলো ঠিক কবে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
মেঙ্ক বলেন, বিকাশমান হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর বক্তব্যের পর মহাকাশকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সামরিক প্রতিযোগিতা আরও প্রকাশ্য রূপ পেল বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তি ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করা।
১৯৬৭ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে যোগাযোগ ও নজরদারি স্যাটেলাইট অকার্যকর করা কিংবা মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন চালিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে শত্রুপক্ষের সামরিক সক্ষমতা ব্যাহত, অকার্যকর কিংবা ধ্বংস করতে কাইনেটিক ও নন-কাইনেটিক—উভয় ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। কমান্ডারের নির্দেশনায় এসব সক্ষমতা আক্রমণাত্মক ও আত্মরক্ষামূলক—দুই ধরনের কাজেই ব্যবহার করা যেতে পারে।
২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন স্পেস ফোর্স মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট ও অন্যান্য মহাকাশসম্পদ সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করছে। তবে গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাহিনীটিকে আত্মরক্ষার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, রাশিয়া ও চীন তাদের সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মহাকাশকে সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে। ২০২৪ সালে রাশিয়া অন্য স্যাটেলাইটে হামলা চালাতে সক্ষম একটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছে বলেও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে।
এ ছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় এক ডজন ইউরোপীয় স্যাটেলাইটের তথ্য রাশিয়ার উপগ্রহ নজরদারি করেছে বলেও মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের মার্কিন স্বীকারোক্তি তাই ভবিষ্যৎ সামরিক সংঘাতে কক্ষপথের ভূমিকা এবং মহাকাশকে ঘিরে পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।