গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করার অপমানের প্রতিশোধ নিতেই রাজপথে নেমেছি: শফিকুর রহমান
গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করে জনগণকে অপমান করা হয়েছে উল্লেখ করে এর প্রতিশোধ নিতেই ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ থেকে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান।
জাতীয়: সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অতি গুরুত্বপূর্ণ লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রায় তিন মাস ধরে চলা নিবিড় তদন্ত শেষে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এই ঘটনার পেছনে কোনো নাশকতা বা সন্দেহজনক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না; বরং এটি ছিল স্রেফ একটি চুরির ঘটনা। এ ঘটনায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। অভিযুক্ত তিন ব্যক্তি হলেন—আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র, ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলাম এবং মো. মাহাবুব হাসান। তারা সবাই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
গত কুরবানি ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার আগে গত ২৫ মে সচিবালয়ের পুরোনো ১ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত সংযোগ রক্ষাকারী কপার কেবল (তামার তার) এন্ট্রি কাটার ব্লেড দিয়ে কেটে নিয়েছিলেন আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র। ধলেশ্বরী কোম্পানির অধীনে দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে সচিবালয়ে কাজ করতেন তিনি।
ছুটি শেষে ১ জুন অফিস খোলার পর টেলিযোগাযোগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন দেখতে পেয়ে বিটিসিএলের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যা পরবর্তীতে মামলায় রূপ নেয়। তদন্তে জানা যায়, রঞ্জন চন্দ্র ছাদে ময়লা পরিষ্কারের সময় দীর্ঘ তারটি দেখতে পেয়ে লোভ সামলাতে না পেরে তা কেটে ফেলেন এবং ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনের একটি ভাঙারির দোকানে ৮০০ টাকা কেজি দরে তা বিক্রি করেন। পুলিশ পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১২ কেজি চোরাই তামার তার উদ্ধার করে।
প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার কাটার ঘটনাটি দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকিস্বরূপ কি না, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে ব্যাপক তদন্ত চালানো হয়। তবে সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. মোর্শেদুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, রঞ্জন চন্দ্র এর আগেও ছোটখাটো চুরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং টেলিফোন লাইনের গুরুত্ব না বুঝেই কেবল তামার লোভে তিনি এই কান্ড ঘটিয়েছিলেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।