সারাদিন ক্লান্তি-ঝিমুনি? এক চামচ কালো তিল হতে পারে খাদ্যতালিকার উপকারী সংযোজন
কালো তিলে রয়েছে আয়রন, কপার, ম্যাগনেশিয়াম ও বি ভিটামিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। পুষ্টিবিদের পরামর্শে কীভাবে খাবেন এবং কারা সতর্ক থাকবেন জেনে নিন।
স্বাস্থ্য: হেপাটাইটিস বি লিভারে সংক্রমণ ঘটানো একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হলে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে টিকা নেওয়ার মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে টিকাকে নিরাপদ ও কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশেষ করে নবজাতকের ক্ষেত্রে টিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, সব শিশুকে জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব, আদর্শভাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হেপাটাইটিস বি টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া উচিত। হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত মায়ের সন্তানদের ক্ষেত্রে জন্মের পরপরই টিকা দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
হেপাটাইটিস বি টিকাকে অনেক সময় ‘ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা’ বলা হয়। এর কারণ, দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ লিভার ক্যানসারের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি এবং টিকা সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
জন্মের পর সব শিশুর হেপাটাইটিস বি টিকা নেওয়া উচিত। টিকা না নেওয়া শিশু ও কিশোরদেরও বয়স অনুযায়ী টিকার পূর্ণ কোর্স সম্পন্ন করার পরামর্শ রয়েছে।
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও টিকার প্রয়োজন রয়েছে। সিডিসির বর্তমান নির্দেশনায় ১৯ থেকে ৫৯ বছর বয়সী সব প্রাপ্তবয়স্কের হেপাটাইটিস বি টিকার পূর্ণ কোর্স নেওয়ার সুপারিশ রয়েছে। ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকলে টিকা নেওয়া উচিত; ঝুঁকি না থাকলেও কেউ টিকা নিতে চাইলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে পারেন।
হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন।
হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত ব্যক্তির যৌনসঙ্গী ও একই পরিবারের সদস্য।
একাধিক যৌনসঙ্গী রয়েছে এমন ব্যক্তি।
যৌনবাহিত রোগের পরীক্ষা বা চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তি।
স্বাস্থ্যকর্মী ও রক্ত বা রক্তজাত উপাদানের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকিতে থাকা কর্মী।
ডায়ালাইসিস নেওয়া বা কিডনি বিকলতার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি।
দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি।
এইচআইভি বা হেপাটাইটিস সি সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তি।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিছু ব্যক্তি।
ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী ব্যক্তি।
হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের হার বেশি এমন দেশে ভ্রমণকারী ব্যক্তি।
হেপাটাইটিস বি টিকার ডোজের সংখ্যা টিকার ধরন, বয়স ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। অনেক প্রচলিত টিকার ক্ষেত্রে তিন ডোজের সূচি হলো—প্রথম ডোজের পর দ্বিতীয় ডোজ অন্তত চার সপ্তাহ পরে এবং তৃতীয় ডোজ প্রথম ডোজের অন্তত ১৬ সপ্তাহ পরে। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের মধ্যে ন্যূনতম চার সপ্তাহ এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডোজের মধ্যে ন্যূনতম আট সপ্তাহ ব্যবধান থাকতে হয়।
তবে সব টিকার সূচি একই নয়। কিছু টিকার ক্ষেত্রে দুই ডোজ বা চার ডোজের সূচিও রয়েছে। তাই কোন টিকা, কত ডোজ এবং কোন ব্যবধানে নিতে হবে—তা চিকিৎসক বা টিকাদানকেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
কোনো ডোজ নির্ধারিত সময়ে নেওয়া না হলে সাধারণত পুরো কোর্স নতুন করে শুরু করতে হয় না। বাকি ডোজটি যত দ্রুত সম্ভব নেওয়া যায়।
হেপাটাইটিস বি টিকা থেকে হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এটি সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য তৈরি টিকা এবং সিডিসি এটিকে নিরাপদ ও কার্যকর বলে উল্লেখ করেছে।
তবে কারও শরীরে আগে থেকেই হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের সংক্রমণ থাকলে টিকা সেই সংক্রমণের চিকিৎসা করে না। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বর্তমান বা অতীতের সংক্রমণ সম্পর্কে জানা যায়। টিকা নেওয়ার আগে পরীক্ষা প্রয়োজন কি না, তা ব্যক্তির ঝুঁকি ও চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর নির্ভর করে।
টিকা নেওয়ার পর ইনজেকশনের স্থানে ব্যথা বা লালচে ভাব এবং সাময়িক জ্বরের মতো হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। গুরুতর প্রতিক্রিয়া বিরল।
হেপাটাইটিস বি থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা পেতে বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী টিকার পূর্ণ কোর্স সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের বা সন্তানের টিকার ইতিহাস সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে চিকিৎসক বা অনুমোদিত টিকাদানকেন্দ্রের পরামর্শ নেওয়া উচিত।