স্বাস্থ্য: বাইরে বের হলে কিংবা ব্যস্ততার কারণে অনেকেই দীর্ঘ সময় প্রস্রাবের চাপ চেপে রাখেন। চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিয়মিত দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখলে মূত্রথলি বা ইউরিনারি ব্লাডার এবং ইউরিনারি সিস্টেমের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ে, যা পরবর্তীতে জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার রূপ নিতে পারে।
মানবদেহের কিডনি বা বৃক্ক সারাক্ষণ রক্ত শোধন করে প্রস্রাব তৈরি করতে থাকে, যা মূত্রথলিতে (ব্লাডার) গিয়ে জমা হয়। ব্লাডার পূর্ণ হয়ে গেলে স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে সংকেত পৌঁছায়। তবে স্বাভাবিক সংকেত উপেক্ষা করে টানা ৫-৬ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় প্রস্রাব আটকে রাখলে ব্লাডারের পেশি অতিরিক্ত প্রসারিত বা স্ট্রেচ হতে বাধ্য হয়।
ব্লাডারে প্রস্রাব সঞ্চয় মস্তিষ্কের সংকেত উপেক্ষা ব্লাডারের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ তলপেটে অস্বস্তি ও তীব্র ব্যথা
প্রস্রাব ঘনঘন চেপে রাখার কারণে সরাসরি ইনফেকশন না হলেও ইউরিনারি সিস্টেমের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়:
প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত চাপের ফলে ব্লাডারের মাংসপেশি তার স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে ফেলে এবং ব্লাডার স্থায়ীভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
প্রস্রাব করার সময় গোপনাঙ্গে তীব্র জ্বালাপোড়া, বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া এবং প্রস্রাবে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়া।
অবরুদ্ধ প্রস্রাবের কারণে ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করে শরীরে সংক্রমণ ও জ্বর নিয়ে আসতে পারে।
ঘুমানোর সময় মানবদেহ স্বাভাবিকভাবেই কম পরিমাণে প্রস্রাব তৈরি করে। তাই রাতে ৩-৪ ঘণ্টা পর পর উঠে বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে ঘুমের মধ্যে প্রস্রাবের চাপ স্পষ্ট অনুভব হলে তা চেপে রাখা একদমই উচিত নয়।
বাইরের বাথরুম ব্যবহারের ভয়ে অনেকে পানি কম খান, যা সম্পূর্ণ ভুল পদ্ধতি। পানি কম খেলে কিডনি ও প্রস্রাবের সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়।
বাইরে বাথরুম ব্যবহারে অস্বস্তি থাকলে সাথে টয়লেট স্যানিটাইজার স্প্রে রাখা যেতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই পানি খাওয়া কমানো বা দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখা যাবে না।