সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা, মাঠে নামছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে অক্টোবরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এ এম এ মুহিত।
স্বাস্থ্য: পাইলসের সফল চিকিৎসার পর অনেকেই ভেবে থাকেন এই বুঝি চিরতরে মুক্তি মিলল। রক্তপাত কমা, মলত্যাগ সহজ হওয়া এবং অস্বস্তি দূর হওয়ার ফলে স্বস্তিও মেলে। কিন্তু কয়েক মাস বা কিছুদিন পর দেখা যায় একই ধরনের উপসর্গ আবারও ফিরে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসকের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, প্রতিবার উপসর্গ ফিরে আসার অর্থ এই নয় যে আগের চিকিৎসা কাজ করেনি। এর পেছনে বেশ কিছু জীবনযাত্রার ও শারীরিক কারণ জড়িত থাকে।
আসুন জেনে নেওয়া যাক চিকিৎসার পরও কেন পাইলসের সমস্যা পুনরায় দেখা দিতে পারে:
পাইলসের চিকিৎসা করলেই এর জন্য দায়ী অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বা মলত্যাগের অভ্যাস আপনাআপনি বদলে যায় না। দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে শক্ত মল এবং মলত্যাগের সময় নিয়মিত অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার অভ্যাস রয়ে যায়। চিকিৎসা মাধ্যমে ফোলা টিস্যু দূর করা হলেও এই অভ্যাসগুলো অব্যাহত থাকলে একই স্থানে পুনরায় চাপ পড়ে এবং উপসর্গ ফিরে আসে। গবেষণায় দেখা গেছে, হেমোরয়েডে আক্রান্তদের মধ্যে কার্যকরী কোষ্ঠকাঠিন্যের হার সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি থাকে।
চিকিৎসার সময় অনেকেই বেশি পানি পান করা, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং টয়লেটে কম সময় কাটানোর মতো ভালো অভ্যাস গড়ে তোলেন। কিন্তু উপসর্গ কমে যাওয়ার পর অনেকেই ধীরে ধীরে আবার পুরোনো রুটিনে ফিরে যান। বিশেষ করে মোবাইল ফোন বা পত্রিকা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকার অভ্যাস মলদ্বারের আশপাশে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা পাইলসকে পুনরায় ডেকে আনে।
অনেক সময় রোগীর ধারণা থাকে চিকিৎসার পর পাইলসের সমস্ত আক্রান্ত টিস্যু পুরোপুরি ধ্বংস বা অপসারণ হয়ে গেছে। কিন্তু পাইলসের সংখ্যা, আকার এবং ব্যবহৃত চিকিৎসা পদ্ধতির ধরনের ওপর নির্ভর করে অনেক সময় ধাপে ধাপে চিকিৎসা নিতে হয়। ফলে কিছু আক্রান্ত টিস্যু থেকে গেলে পরবর্তীতে আবারও উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে।
শুধু কোষ্ঠকাঠিন্য নয়, আরও নানা কারণে মলদ্বারের চারপাশে দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি কাশি, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, গর্ভাবস্থা, নিয়মিত ভারী বস্তু উত্তোলন কিংবা একটানা দীর্ঘসময় বসে কাজ করা। এসব অন্তর্নিহিত কারণ দূর না হলে শুধু পাইলসের চিকিৎসা করালে পুরোপুরি নিরাময় কঠিন হয়ে পড়ে।
পূর্বে পাইলস হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলে পরবর্তী সময়ে মলদ্বারে সামান্য রক্তপাত, ব্যথা বা ফোলাভাব দেখা দিলেই রোগীরা সেটিকে আবার পাইলস ভেবে ভুল করেন। কিন্তু মনে রাখা জরুরি যে, এনাল ফিশার, ফিস্টুলা বা অন্য কোনো গুহ্যদ্বার সংক্রান্ত রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই নতুন বা তীব্র উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে কিছু না ভেবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।