নেপালের ভয়াবহ বন্যার কারণ খুঁজতে বৈজ্ঞানিক তদন্ত
২৬ আগস্টের ভয়াবহ ভোতেকোশি বন্যার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করেছে নেপাল সরকার। তদন্তে হিমবাহ, ভূতত্ত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।
আন্তর্জাতিক: অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো স্টিলথ প্রযুক্তির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের একটি স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশ গন্তব্যে না পৌঁছে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে শুক্রবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চালানটিতে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের একটি ক্যানোপি বা ককপিটের স্বচ্ছ ছাদ ছিল। বিমানটির স্টিলথ সক্ষমতার সঙ্গে এই ক্যানোপির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ককপিটের ওপর গম্বুজের মতো থাকা এই আবরণে এমন বিশেষ স্বচ্ছ উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা বিমানের রাডার প্রতিফলন কমাতে সহায়তা করে।
পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যন্ত্রাংশটি পাঠাতে একটি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে চালানটি হংকংয়ে পৌঁছে যায়।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজ যন্ত্রাংশটি বর্তমানে কোথায় রয়েছে কিংবা কার কাছে আছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এটি চীনের হাতে পৌঁছে থাকতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে।
ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও কংগ্রেসের যৌথ তদন্ত গত জুনে শুরু হয়। তদন্ত এখনো চলমান।
সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্তৃপক্ষ যন্ত্রাংশটি উদ্ধারের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি কীভাবে চালানটি নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে হংকংয়ে পৌঁছাল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এফ-৩৫-এর ক্যানোপি শুধু ককপিটের ওপরের সুরক্ষামূলক আবরণ নয়। এতে ব্যবহৃত বিশেষ উপাদান যুদ্ধবিমানটির স্টিলথ বৈশিষ্ট্যের অংশ। সময়ের সঙ্গে এই উপাদান ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে এবং তখন ক্যানোপি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়।
এফ-৩৫ যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মিত্র দেশের সামরিক বহরের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান। পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ও মিত্র দেশগুলোর জন্য এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০টির বেশি এফ-৩৫ তৈরি করেছে।
ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিযোগিতা চলছে। ফলে এফ-৩৫-এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ নির্ধারিত গন্তব্যের বাইরে চলে যাওয়ার বিষয়টি মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।