সৌদিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, একই পরিবারের ৭ জনসহ নিহত ৯
সৌদি আরবের আল-আহসায় দুটি গাড়ির সংঘর্ষে একই পরিবারের বাবা-মা ও পাঁচ সন্তানসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। আল-উকাইর-আল-উয়ুন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আন্তর্জাতিক: আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে কুনার ও পাক্তিকা প্রদেশে এসব হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় ২৮ সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। তবে উভয় পক্ষের দেওয়া হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, কুনার প্রদেশের নূরগাল জেলার পাতান গ্রামে স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৩টার দিকে একটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে বাড়িটির মালিক নূর আহমাদ এবং তার পরিবারের আরও দুই সদস্য নিহত হন। আহত হয়েছেন পরিবারের আরও চারজন।
পাক্তিকার বারমাল জেলার রাখাহ ও তোর কান্দি এলাকাতেও হামলা চালানো হয়। সেখানে একটি দোকান ও একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ওই হামলায় কেউ হতাহত হননি বলে আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হামলার নিন্দা জানিয়ে একে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হামলার জবাব দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, বিমান হামলার লক্ষ্য ছিল আফগানিস্তানের ভেতরে থাকা সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আস্তানা। তাদের দেওয়া হিসাবে, হামলায় ২৮ জন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়েছেন।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সোমবার পর্যন্ত হামলা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। ফলে হামলার লক্ষ্যবস্তু ও হতাহতের বিষয়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া ও সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র হামলা বেড়েছে। গত সপ্তাহে হাংগু জেলায় একটি নিরাপত্তা বাহিনীর বহরে বোমা হামলায় ছয় পাকিস্তানি সেনা নিহত হন। এর আগে কোহাটে পুলিশ স্থাপনায় আত্মঘাতী হামলা ও বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২১ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হন।
পাকিস্তান এসব হামলার জন্য আফগানিস্তানে অবস্থানকারী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে আসছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করছে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিয়ে বিরোধ চলছে। চলতি বছর সীমান্তে একাধিক দফা সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলার পর নতুন এই বিমান হামলা দুই দেশের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।