রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা চাইলেন স্পিকার
চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বিনিয়োগ, করিডোর ও জ্বালানি ইস্যুতে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ঢাকা: ১০০০ টাকার নোট বাতিল এবং স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একই দিন প্রকাশিত প্রতিবেদনে নোটিশ পাঠানোর তথ্যও নিশ্চিত করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যাপ্ত রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়া অর্থ সরবরাহ বাড়াচ্ছে। নোটিশদাতার দাবি, এর ফলে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হচ্ছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নতুন টাকা ছাপানোর ক্ষেত্রে স্বর্ণ, রৌপ্য অথবা নির্ভরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার সমপরিমাণ রিজার্ভ রাখা উচিত। এ ব্যবস্থা অনুসরণ না করার কারণে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ব্যাংকের ইস্যু বিভাগের সম্পদের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য ও অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের সিকিউরিটিজ, অভ্যন্তরীণ বিল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কাগজপত্রও রয়েছে। ২৫ জুন ২০২৬-এর হিসাবে ইস্যু করা নোটের বিপরীতে এসব সম্পদ হিসাবের অংশ ছিল।
নোটিশে ১০০০ টাকার নোটকে কালোটাকা ও অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত করে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বড় মূল্যমানের এই নোট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে প্রয়োজনীয় নয় এবং এটি অবৈধ অর্থ মজুত ও লেনদেনে ব্যবহৃত হচ্ছে।
নোটিশদাতা দাবি করেছেন, ১০০০ টাকার নোট বাতিল করলে কালোটাকার মজুত ও ছায়া অর্থনীতির বিস্তার কমানো এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানো সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের ২০০০ রুপির নোট প্রত্যাহারের উদাহরণও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার যথাযথ রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকারকেও যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনানুযায়ী ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব ঘোষিত দায়িত্বের মধ্যে মূল্যস্থিতি ও মুদ্রানীতি পরিচালনা এবং অর্থ সরবরাহ এমনভাবে ব্যবস্থাপনা করা রয়েছে, যাতে অর্থনীতি ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।