১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কালোটাকা প্রতিরোধের দাবিতে ১০০০ টাকার নোট বাতিল এবং রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।
ঢাকা: জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, চীন বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে দেশের উন্নয়নে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে। তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন।
স্পিকার বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ সংকট সমাধানে চীনের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখেন।
তিনি বলেন, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার বাংলাদেশের ‘ওয়ান চায়না পলিসি’ সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায়, বিশেষ করে ভোলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে চীনা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীকে সমর্থনের জন্য চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। বড় প্রকল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন মাঝারি ও ছোট প্রকল্পেও চীনা বিনিয়োগ রয়েছে।
বাংলাদেশকে এ অঞ্চলে পণ্য উৎপাদনভিত্তিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চীন আগ্রহী বলেও জানান তিনি। আইসিটি ও বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন চীনা রাষ্ট্রদূত।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর, চলমান রোহিঙ্গা সংকট ও জ্বালানি ইস্যুসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।