জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ঢাকা: জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের সফরে জাতিসংঘের অধিবেশনে বাংলাদেশের স্বার্থ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার পাশাপাশি একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থল ম্যানহাটনের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলের লবিতে সংবাদ সম্মেলনে সফরের লক্ষ্য ও কর্মসূচি নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদা বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়া। ফলে আলাদাভাবে এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য সময়ের সুযোগ সীমিত।
তবে ট্রাম্প ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি দ্বিপক্ষীয় বিষয় এবং উভয় পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরের মাধ্যমে বৈঠক আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
এর আগে ৩১ আগস্ট পাঠানো চিঠিতে ট্রাম্প বাংলাদেশের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর সঙ্গে শিগগির সাক্ষাতের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সফরে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নে হুমায়ুন কবির বলেন, নিউইয়র্ক সফরে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আলোচনার সুযোগ খুবই সীমিত। গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা, নেতৃত্ব ও নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই হবে সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, তারেক রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার উপায়, জনগণের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয় তুলে ধরবেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকেলে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের বহর এবার আগের তুলনায় ছোট রাখা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। মাহ্দী আমিন বলেন, আনুষ্ঠানিক বহরে ৩৩ জন রয়েছেন। এর বাইরে নিরাপত্তাকর্মী, প্রয়োজনীয় গণমাধ্যমকর্মী ও ব্যক্তিগত কয়েকজন কর্মী রয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় কমানো এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে দেশের স্বার্থ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্যেই বহর সংক্ষিপ্ত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সফরকে ‘কাজের জন্য সফর’ হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়েছিল, নিউইয়র্কে অবস্থানের চার দিনে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করা তাঁর পরিবারের তৃতীয় সদস্য। এর আগে তাঁর বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপস্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।