মা হওয়ার পর বদলেছে সৌন্দর্য নিয়ে ভাবনা, জানালেন ক্যাটরিনা
মাতৃত্বের পর ত্বক ও সৌন্দর্য নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। গুরুত্ব দিচ্ছেন স্কিন ব্যারিয়ার, সুস্থতা ও আত্মবিশ্বাসে।
বিনোদন: বলিউড অভিনেতা সুনীল শেঠি জানিয়েছেন, গ্লুটেন ও দুগ্ধজাত খাবার তাঁর শরীরে সমস্যা তৈরি করে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন সন্ধ্যার দিকে মাথাব্যথায় ভুগতেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন, এর সঙ্গে তাঁর পরিপাকতন্ত্রের সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গ্লুটেন তাঁর শরীরের জন্য উপযোগী নয় বলে জানতে পারেন।
সুনীলের এই অভিজ্ঞতা সামনে আসার পর গ্লুটেন নিয়ে আবারও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গ্লুটেন হলো গম, বার্লি ও রাইয়ে থাকা এক ধরনের প্রোটিন। রুটি, পাউরুটি, পাস্তা, কেকসহ এসব শস্য দিয়ে তৈরি অনেক খাবারে গ্লুটেন থাকে। কিছু সস ও অধিকাংশ বিয়ারেও এটি থাকতে পারে।
তবে গ্লুটেন খেলেই সবার সমস্যা হবে—এমন নয়। কারও সিলিয়াক রোগ, কারও গ্লুটেন-সংবেদনশীলতা কিংবা অন্য কোনো খাদ্য-অসহিষ্ণুতা থাকতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলেই নিজের সিদ্ধান্তে গ্লুটেন বাদ না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
গ্লুটেন-সম্পর্কিত সমস্যায় পেট ফাঁপা, পেটব্যথা, গ্যাস, ডায়রিয়া, বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সিলিয়াক রোগে এসব উপসর্গের পাশাপাশি খাবার থেকে পুষ্টি শোষণে সমস্যা হতে পারে।
তবে একই ধরনের উপসর্গ ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস), ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বা অন্যান্য পরিপাকতন্ত্রের সমস্যাতেও হতে পারে। তাই শুধু পেটের সমস্যার ভিত্তিতে গ্লুটেনের সমস্যা নির্ণয় করা যায় না।
সিলিয়াক রোগের সঙ্গে ডার্মাটাইটিস হারপেটিফর্মিস নামে একটি ত্বকের সমস্যা সম্পর্কিত। এতে সাধারণত চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি বা ফোসকার মতো র্যাশ দেখা দিতে পারে। কনুই, হাঁটু ও নিতম্বের আশপাশে এটি বেশি দেখা যায়।
তাই গ্লুটেনযুক্ত খাবার খাওয়ার পর ত্বকে অস্বাভাবিক র্যাশ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে সব ধরনের র্যাশকে গ্লুটেন অ্যালার্জির লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
সিলিয়াক রোগে ক্ষুদ্রান্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শরীর খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঠিকমতো শোষণ করতে পারে না। এর ফলে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং আয়রনসহ বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সিলিয়াক রোগের সঙ্গে মাথাব্যথা ও স্নায়বিক কিছু উপসর্গের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে মাথাব্যথা হলেই গ্লুটেনের সমস্যা রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক নয়।
সুনীল শেঠিও তাঁর নিজের অভিজ্ঞতায় মাথাব্যথার সঙ্গে পরিপাকতন্ত্রের সমস্যার সম্পর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরে তিনি খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে গ্লুটেন ও দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলতে শুরু করেন।
গ্লুটেন খাওয়ার পর বারবার একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সিলিয়াক রোগ শনাক্ত করতে রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে ক্ষুদ্রান্ত্রের বায়োপসি করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে নিজের ইচ্ছায় গ্লুটেন পুরোপুরি বাদ দিলে পরীক্ষার ফল প্রভাবিত হতে পারে।
সুতরাং পেটের সমস্যা, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, ত্বকে অস্বাভাবিক র্যাশ বা বারবার মাথাব্যথার মতো উপসর্গ থাকলে নিজে থেকে ‘গ্লুটেন অ্যালার্জি’ ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।