মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে মধ্যরাতে হামলা ও ভাঙচুর: জামায়াত আমির
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান।
ঢাকা: সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়, সুপারিশ কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তির ফোনের ওপর নির্ভরতার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থী বাদ পড়া এবং ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তুলে এ উদ্বেগ জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, একজন তরুণ বছরের পর বছর পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিয়ে লিখিত ও মৌখিক ধাপ পেরোনোর পরও যদি চাকরিতে ঢোকার আগে পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির সমর্থন কিংবা কোনো নেতার সুপারিশের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চিন্তা করতে হয়, তাহলে সেটি শুধু একজন চাকরিপ্রার্থীর সমস্যা নয়, নিয়োগব্যবস্থার সামগ্রিক বিষয়।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের কারণে বিভিন্ন জেলার অন্তত এক হাজার প্রার্থী বাদ পড়েছেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফলে দেশের ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পুলিশ ভেরিফিকেশনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) যাচাই প্রক্রিয়াও যুক্ত হয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়োগের শুরুতে ভেরিফিকেশনের শর্তে নাশকতা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণকে অনুপযুক্ততার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা নিয়ে তাঁর দেওয়া হিসাবটি তাঁর বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের অনুপাত পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির এই নেতা।
প্রকাশিত খসড়া অনুযায়ী, ১১ ও ১২তম গ্রেডে লিখিত পরীক্ষায় ১০০ এবং ভাইভায় ৫০ নম্বর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে লিখিত ৬০ ও ভাইভা ৪০ এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে লিখিত ২৫ ও ভাইভা ২৫ নম্বর রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
বর্তমানে ১১ ও ১২তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ভাইভায় ১০ নম্বর থাকায় প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় মৌখিক পরীক্ষার গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এ পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হিসেবে নিয়োগের মানোন্নয়ন ও উপযুক্ত জনবল বাছাইয়ের কথা বলা হয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতে, ভাইভার নম্বর বাড়লে নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব, লবিং ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও আশঙ্কা; প্রস্তাবিত নম্বরবণ্টন কার্যকর হলে বাস্তবে এর কী প্রভাব পড়বে, তা আলাদাভাবে মূল্যায়নের বিষয়।
নিজের ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর দাবি, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে ওই সংসদ সদস্য অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে গেলে প্রয়োজনীয় জায়গায় ফোন করে দেওয়ার কথা বলেছেন।
এ দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিষয়টি তুলে ধরে সরকারি নিয়োগে ব্যক্তিগত সুপারিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
নিয়োগব্যবস্থার সংস্কারকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে একজন তরুণের সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত তাঁর মেধা ও যোগ্যতা। পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়, স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী নেতা কিংবা সুপারিশের ফোন যেন চাকরি পাওয়ার শর্ত না হয়—এমন ব্যবস্থার পক্ষে মত দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একজন চাকরিপ্রার্থী যেন নিশ্চিন্তে বলতে পারেন—‘আমি কারও লোক নই। আমি পরীক্ষায় ভালো করেছি। চাকরিটা তাই আমার প্রাপ্য।’
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, যাচাইয়ের মানদণ্ড এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরবণ্টন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য সেই বিতর্ককে আবার সামনে আনল।