বাংলাদেশে বাড়ছে ই-বর্জ্য, ঝুঁকিতে মাটি-পানি ও জনস্বাস্থ্য
বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২০ শতাংশ হারে ই-বর্জ্য বাড়ছে। সোলার প্যানেল ও ব্যাটারির বর্জ্যও নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
ঢাকা: ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ওয়ার্ক অর্ডার দেখিয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের মতিঝিল শাখা থেকে ৮৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পর বিলের অর্থ অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংয়ের স্বত্বাধিকারী আবু নাসের সরকার (দুলাল)-এর বিরুদ্ধে।
ব্যাংকটির অভিযোগ, ঋণ নেওয়ার সময় এনসিটিবির বিলের অর্থ প্রিমিয়ার ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমা দিয়ে ঋণ পরিশোধের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। প্রায় ১০ মাস ধরে ঋণের অর্থ পরিশোধ না করায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এনসিটিবিকে লিখিতভাবে জানিয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংকের মতিঝিল শাখা।
ব্যাংকের ওই চিঠির একটি কপি সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ওয়ার্ক অর্ডার দেখিয়ে ঋণ নেওয়া হয়েছিল এবং এনসিটিবির বিলের অর্থ দিয়ে ঋণ সমন্বয়ের কথা ছিল। ব্যাংকের অভিযোগ, বিলের অর্থ অন্যত্র স্থানান্তরের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০২৬ সালে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ পেয়েছিল সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালের জন্যও প্রায় ১৩০ কোটি টাকার পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ পেয়েছে।
ব্যাংকের আগের ঋণ পরিশোধ না করেই নতুন করে এনসিসি ব্যাংকের পান্থপথ শাখা থেকে প্রায় ১১০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে প্রিমিয়ার ব্যাংক। এ ক্ষেত্রেও এনসিটিবির ওয়ার্ক অর্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিষয়টি জানতে পেরে প্রিমিয়ার ব্যাংকের মতিঝিল শাখা এনসিটিবিকে চিঠি দিয়েছে। ব্যাংকটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঋণের অর্থ পরিশোধের জন্য আবু নাসের সরকারকে ইতোমধ্যে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়কে জানানো হয়েছে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান ও সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) বরাবর পাঠানো চিঠিতে প্রিমিয়ার ব্যাংক জানিয়েছে, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংয়ের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের আর্থিক লেনদেন রয়েছে। প্রতিবছর এনসিটিবির অধীনে পাঠ্যবই সরবরাহের কাজে প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণসুবিধা দেওয়া হতো।
ব্যাংকের দাবি, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বই সরবরাহের জন্যও একইভাবে ঋণসুবিধা দেওয়া হয়েছিল। শর্ত অনুযায়ী এনসিটিবি থেকে পাওয়া বিলের অর্থ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই অর্থ অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রিমিয়ার ব্যাংক।
ব্যাংকের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় ব্যাংকগুলো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্যবই মুদ্রণ খাতে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হতে পারে এবং এর প্রভাব পুরো মুদ্রণ খাতের ওপর পড়তে পারে।
এদিকে সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংয়ের বিরুদ্ধে নিম্নমানের পাঠ্যবই ছাপানোর অভিযোগও উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এনসিটিবির পরিদর্শন দল সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ছাপাখানা পরিদর্শন করে নিম্নমানের প্রায় এক লাখ কপি পাঠ্যবই জব্দ করেছে। ভবিষ্যতে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করে পাঠ্যবই না ছাপানোর জন্য প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আবু নাসের সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
২০২৭ সালের বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর জন্য এনসিটিবি ১৩৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এবার বই মুদ্রণের ব্যয় আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।
ব্যাংকের অভিযোগ ও ঋণের অর্থ অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের বিষয়ে আবু নাসের সরকার (দুলাল) কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
তবে তাঁর দাবি, ছাপাখানায় কিছু নষ্ট বই ছিল এবং এনসিটিবির পরিদর্শন দল সেগুলো জব্দ করেছে।
এনসিটিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তাও প্রিমিয়ার ব্যাংকের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ব্যাংকের অভিযোগ, ঋণ পরিশোধ না করে বিলের অর্থ অন্যত্র স্থানান্তরের কারণে শুধু একটি ব্যাংক নয়, পাঠ্যবই মুদ্রণ খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও ঋণসুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারে।