বাংলাদেশে বাড়ছে ই-বর্জ্য, ঝুঁকিতে মাটি-পানি ও জনস্বাস্থ্য
বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২০ শতাংশ হারে ই-বর্জ্য বাড়ছে। সোলার প্যানেল ও ব্যাটারির বর্জ্যও নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সাদিক কায়েমের বিজয়কে একসময় নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখেছিলেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। তবে বর্তমানে ডাকসুর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে নারীদের খেলাধুলা ও পোশাকের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রফিকুল ইসলাম মাদানী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন। তাঁর পোস্টের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
পোস্টে মাদানী বলেন, সাদিক কায়েম ডাকসু ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি অনেক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন এবং ফলাফলের জন্য সারারাত অপেক্ষা করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, তিনি ওই বিজয়কে ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধী শক্তির বিজয়’ এবং নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখেছিলেন।
তবে একই পোস্টে সাদিক কায়েম ও ডাকসু সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদের নেতৃত্বে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসাও করেন তিনি। তাঁর মতে, সিট বাণিজ্য বন্ধ, যোগ্যতা অনুযায়ী আসন দেওয়া, বৃষ্টির দিনে ছাত্রীদের জন্য ভ্যানের ব্যবস্থা, আলাদা বাস এবং গরমের সময়ে সুপেয় পানির ব্যবস্থা প্রশংসনীয়।
ডাকসুর প্রকাশিত তথ্য ও বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে সাদিক কায়েমকে বর্তমান ভিপি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদানী তাঁর পোস্টে নারী শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও পোশাক নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু খেলাধুলার নয়; বরং কী ধরনের পোশাক পরে নারীদের খেলাধুলা আয়োজন করা হচ্ছে এবং সেটিকে কীভাবে প্রকাশ্যে উপস্থাপন করা হচ্ছে—সেটিও তাঁর প্রশ্নের বিষয়।
তিনি এ বিষয়ে সাদিক কায়েমকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইসলামি বক্তাদেরও স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ করেন।
মাদানীর ভাষ্য, সাদিক কায়েমকে অনেক নারী অনুসরণ করেন এবং বিভিন্ন আলেমের সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য যোগাযোগের কারণে তাঁর কর্মকাণ্ড অনুসারীদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণেই তিনি এ বিষয়ে ইসলামি বক্তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা চেয়েছেন।
মাদানী তাঁর পোস্টে আরও বলেন, কোনো সংগঠন বা নেতৃত্বের মূল্যায়ন শুধু উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে করা উচিত নয়; তাঁর কাছে আদর্শ ও ধর্মীয় বিধানও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে বলেন, কোনো পক্ষ উন্নয়নমূলক কাজ করলেও তাদের অন্যান্য রাজনৈতিক বা আদর্শিক অবস্থান নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। একইভাবে, সাদিক কায়েমের নেতৃত্বাধীন ডাকসুর কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
পোস্টের শেষাংশে তিনি সাদিক কায়েমসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান এবং ইসলামি বক্তাদের বিষয়টি নিয়ে কথা বলার অনুরোধ করেন।
রফিকুল ইসলাম মাদানীর এই পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোস্টটিতে আড়াই হাজারের মতো প্রতিক্রিয়া পড়েছে।
তবে তাঁর বক্তব্যগুলো তাঁর ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে এসেছে। এ বিষয়ে সাদিক কায়েম বা ডাকসুর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।