বেটোপিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা মিললে সদস্যপদ বাতিল করা হবে: বেসিস
ফ্রিল্যান্সিং খাতে বেটোপিয়া গ্রুপকে ঘিরে ওঠা অনিয়মের অভিযোগে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বেসিস। প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা: কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য ও পেশাগত অনিশ্চয়তা দূর করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং একটি ন্যায্য বেতন কাঠামো নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও বক্তারা। একই সঙ্গে শিক্ষকদের জন্য জাতীয় ন্যূনতম বেতন কাঠামো প্রণয়ন, লিখিত নিয়োগ নীতিমালা, কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত প্রশিক্ষণসহ ছুটি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘রুটস অ্যান্ড রুটস ফাউন্ডেশন’ (আরএনআর ফাউন্ডেশন)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘কওমি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য: একটি জাতীয় সংকটের রূপরেখা’ শীর্ষক এক উন্মুক্ত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে ঢাকার উত্তরখানের জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলামের মহাপরিচালক মাওলানা তোফায়েল গাজালী বলেন, ‘মাদ্রাসা কারও বাবার সম্পদ নয়। যারা মাদ্রাসায় পড়ান, তারা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল কর্মী নন। মাদ্রাসার স্বায়ত্তশাসন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখেই শিক্ষকদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।’
বক্তারা বলেন, বিপুলসংখ্যক কওমি শিক্ষক অত্যন্ত মানবেতর ও কম বেতনে দীর্ঘ সময় পাঠদান করে আসছেন, যা তাদের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্যও যথেষ্ট নয়। অথচ এই শিক্ষকরাই দেশ ও জাতির নৈতিক ভিত্তি গঠনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
কওমি শিক্ষকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ও সম্মানজনক বেতন স্কেল প্রণয়ন করা।
নিয়োগ প্রক্রিয়া, কর্মঘণ্টা, ছুটি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সুনির্দিষ্ট লিখিত নীতিমালা তৈরি করা।
জাতীয় জরিপ ও নারী শিক্ষকদের অধিকার: কওমি শিক্ষকদের ওপর একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় জরিপ পরিচালনা এবং মহিলা কওমি মাদ্রাসার নারী শিক্ষকদের লিঙ্গভিত্তিক বেতন বৈষম্য দূর করতে পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন করা।
আরএনআর ফাউন্ডেশনের প্রধান মাওলানা সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে এবং রাশিদুল আলম মোল্লার সঞ্চালনা ও কি-নোট উপস্থাপনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম-আহ্বায়ক আশরাফ মাহদী, বাংলাদেশ গ্রীণ পার্টির আহ্বায়ক রিদওয়ান হাসানসহ বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা পরিশেষে বলেন, কওমি মাদ্রাসার স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রেখেই শিক্ষক সমাজের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দাবি।