সালমান-শায়ানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে ৫৩৮ কোটি টাকা আত্মসাৎর মামলা
আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ৫৩৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে সালমান এফ রহমান, তাঁর ছেলে শায়ানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
ঢাকা: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের নতুন সময়সূচি নির্ধারণে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে সফরটি হতে পারে। তবে সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং বাংলাদেশ বা ভারত—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
এর আগে তারেক রহমানের ভারত সফরের একটি উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েও স্থগিত হয়ে যায়। এখন নতুন করে সফরের সময় নির্ধারণে দুই দেশ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসও জানিয়েছে, নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সফর আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগে ভারত আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিয়েছে। তিনি বর্তমান হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং শিগগিরই দায়িত্ব নিতে পারেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ অথবা নভেম্বরের শুরুতে আসাদ আলম সিয়াম দিল্লিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর সফরের সময়সূচি নির্ধারণের আলোচনা আরও গতি পেতে পারে।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের ক্ষেত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি একটি গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হয়ে আছে। ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে নয়াদিল্লির কাছে শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের প্রত্যর্পণ চেয়ে আসছে। দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে আগস্টে ভারত সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সফরটি হয়নি। রুটিন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সফরের পরিবেশ ও সময়সূচিতে প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এর মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। জবাবে মোদিও প্রতিক্রিয়া জানান। দুই নেতার এই সৌজন্য বিনিময়ের ঘটনাকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের চলমান প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে।
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারত তাঁকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। একই সময়ে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে স্পষ্ট করে, দুটি আমন্ত্রণ আলাদা ছিল—একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য।
বর্তমানে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে আলোচনা করা হলেও সফরের দিনক্ষণ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও অমীমাংসিত বিষয়গুলোর অগ্রগতির ওপরই শেষ পর্যন্ত সফরের সময়সূচি নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।