ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি কার্যালয়ে মধ্যরাতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় স্বাস্থ্যকর্মী ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ডা. তাসনিম জারা। ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট চারটি প্রশ্ন রেখেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ফাঁকা বা ভাঙচুর হওয়া কেন্দ্রটির বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. জারা জানান, গত ৫০ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি মিরপুরের গরিব মা ও শিশুদের নামমাত্র খরচে সেবা দিয়ে আসছে। হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরুর ঠিক আগের রাতে এই কেন্দ্রে হামলা চালানোয় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফ্রিজ থেকে বের করা বা মেঝেতে পড়ে থাকা টিকাগুলো আর শিশুদের দেওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া টিকার রেজিস্টার খাতা লুট হওয়ায় কোন শিশুর কোন ডোজ বাকি রয়েছে, তা ট্র্যাক করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কেন্দ্রে থাকা দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন খোয়া যাওয়ায় গরিব গর্ভবতী মায়েরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
থানা থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের দূরে দুই শ মানুষ ভারী মেশিন দিয়ে একটা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিল, যা আধা বা এক ঘণ্টার কাজ নয়। পুলিশকে খবর দেওয়া সত্ত্বেও তারা কী করছিল? সাধারণ মানুষ তবে কার ভরসায় থাকবে?
অতীতে এই দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হলেও ২০২৬ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেন দখলদাররা আবার সাহস পাচ্ছে? দলের ভেতরের কারা এদের আস্কারা দিচ্ছে? বিচার নিশ্চিত না হলে কোনো অর্জনেরই অর্থ থাকে না।
এটি কি কেবলই বিচ্ছিন্ন ঘটনা? কুয়াকাটা, লালমনিরহাট, নারায়ণগঞ্জ ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন দখল ও উত্তেজনার ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সরকার কি এই দখলদারি থামাতে চায়, নাকি শুধু বহিষ্কার আর বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, বরং সরকারের নিজস্ব ইপিআই টিকাদান কর্মসূচির ওপর সরাসরি হামলা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই এলাকার শিশুদের টিকাদানের বিকল্প ব্যবস্থা ও দায়িত্ব কীভাবে নেবে?