মানবতাবিরোধী মামলার সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক শেষ হতে পারে অক্টোবরের মধ্যে
শতাধিক গুম ও হত্যার অভিযোগে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের মানবতাবিরোধী মামলার সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক অক্টোবরের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
ঢাকা: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে অংশগ্রহণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ, উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন সভায় বক্তব্য, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ছিল।
এর আগে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি সম্পর্কে জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদি আমিনও জানিয়েছিলেন, সফরে জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
হুমায়ুন কবির জানান, অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
এ ছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সফরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক শান্তিসহ বিভিন্ন বিষয় এসব আলোচনায় উঠে আসে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নিজের প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নীতি ও অগ্রাধিকার এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে দেশের অবস্থান তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও তখন বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জাতীয় নীতি ও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবির বলেন, বিভিন্ন সভা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়া অতিথিরা বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, সম্মান ও আত্মমর্যাদাকে তুলে ধরেছেন।
তবে এসব বক্তব্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে এসেছে। সফরের বাস্তব ফলাফল মূল্যায়নে বিভিন্ন বৈঠকে আলোচিত বিষয়, চুক্তি বা সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট অগ্রগতিও বিবেচনায় রাখা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (আন্তঃসরকারি সংস্থাসমূহ অনুবিভাগ) এম ফরহাদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহীদুল করিম উপস্থিত ছিলেন।