তিন বছর বিয়ের ছবি প্রকাশ করেননি তাপসী
২০২৩ সালে ম্যাথিয়াস বোকে বিয়ের পর প্রায় তিন বছর বিয়ের ছবি প্রকাশ করেননি তাপসী পান্নু। ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখার কারণ জানিয়ে অভিনেত্রী বললেন, বিয়ে তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।
বিনোদন: মাতৃত্বের পর বদলে যায় জীবনের অনেক কিছুই। সন্তানকে ঘিরে নতুন অনুভূতি, দায়িত্ব ও অভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় মায়েদের। বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়ার অভিজ্ঞতাও ছিল তেমনই। সন্তান জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস ছেলেকে চোখের আড়াল করতে চাইতেন না তিনি। তবে কাজের প্রয়োজনে একসময় সন্তানকে বাড়িতে রেখে বাইরে যেতে হয়। সেই যাত্রার স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেননি অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিণীতি জানান, ছেলেকে রেখে প্রথমবার মুম্বাই যাওয়ার সময় বিমানে টানা তিন ঘণ্টা কেঁদেছিলেন তিনি।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, ওই যাত্রার অনেক কিছুই তার মনে নেই। বিমানবন্দরে কীভাবে পৌঁছেছেন, কীভাবে বিমানে উঠেছেন কিংবা মুম্বাইয়ে কীভাবে পৌঁছেছেন—এসব কিছুই মনে করতে পারেন না। শুধু মনে আছে, পুরো তিন ঘণ্টা তিনি কেঁদেছিলেন।
সন্তানকে রেখে কাজে বের হওয়ার সময় মায়েদের মধ্যে যে অপরাধবোধ তৈরি হয়, পরিণীতির ক্ষেত্রেও তা হয়েছিল। তবে তার মতে, সেই অনুভূতি কেবল সাধারণ ‘মম গিল্ট’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
তখন তার মনে হয়েছিল, হয়তো আর কখনো কাজ করতে পারবেন না। সন্তানকে ছেড়ে বাইরে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভেতরে ভেতরে তীব্র মানসিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল তাকে।
তবে বাস্তবে ছেলেকে নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ ছিল না। সন্তান পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিরাপদেই বাড়িতে ছিল। তার অনুপস্থিতির কারণে শিশুটির কোনো সমস্যাও হয়নি। বরং পরিবারের সদস্যরা পরিণীতিকে আরও কিছুদিন বাইরে থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিয়েছিলেন।
পরিণীতির মতে, একজন মায়ের এই অপরাধবোধ অনেক সময় অত্যন্ত তীব্র হয়ে উঠতে পারে। এর পেছনে মায়ের স্বাভাবিক প্রবৃত্তির পাশাপাশি সমাজের তৈরি করে দেওয়া প্রত্যাশারও ভূমিকা রয়েছে।
কাজের প্রয়োজনে বাইরে বের হলে অনেক নারীই তাকে সন্তানের বিষয়ে প্রশ্ন করেন বলেও জানান অভিনেত্রী। তারা সরাসরি জানতে চান, ‘আপনার বাচ্চা কোথায়?’ তখন পরিণীতি জানান, সন্তান বাড়িতেই আছে।
অভিনেত্রীর মতে, একজন মা সন্তানকে ভালোবাসার পাশাপাশি নিজের পেশাগত জীবনও চালিয়ে যেতে পারেন—এই বিষয়টি সমাজের আরও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা প্রয়োজন। সন্তানের প্রতি দায়িত্ব ও নিজের ক্যারিয়ারের মধ্যে ভারসাম্য রাখাকে মায়ের ভালোবাসার বিপরীত হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই।
মাতৃত্বের পর নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে পরিণীতি মূলত মায়েদের মানসিক চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশার বিষয়টিই সামনে এনেছেন।