কানাডার সরকারি ওয়েবসাইট এআই এজেন্টের হ্যাকিংয়ের চেষ্টা
কানাডার ‘লাইব্রেরি অ্যান্ড আর্কাইভস’-এর ওয়েবসাইটে ব্যর্থ হ্যাকিং চেষ্টা চালিয়েছে এআই এজেন্ট। তবে সরকারি নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক: জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি (পিআর) পাওয়ার স্বপ্ন এখন বিদেশিদের জন্য বহুগুণ ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন ঘোষিত আইন অনুযায়ী, পিআর আবেদনের ফি আগের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বাড়িয়ে ২ লাখ ইয়েন (প্রায় ১,২৭০ মার্কিন ডলার) নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে শুধু ফি বৃদ্ধিই নয়, নতুন নিয়মে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে বিদেশিদের বার্ষিক আয়, নিয়মিত পেনশন ও সামাজিক বীমা পরিশোধের প্রমাণ এবং জাপানি ভাষায় দক্ষতার মতো একাধিক কঠোর শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পিআর ফি ও শর্তাবলী কার্যকর হওয়ার আগেই পুরোনো নিয়মে আবেদন জমা দিতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে জাপানের প্রধান ইমিগ্রেশন অফিসগুলোতে রেকর্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানী টোকিওর প্রধান ইমিগ্রেশন ব্যুরোর সামনে আবেদনকারীদের অপেক্ষার সময় ৭ ঘণ্টারও বেশি ছাড়িয়ে যায়।
গত জুলাই মাসেই সব ধরনের ভিসার আবেদন ফি পাঁচ গুণ বৃদ্ধি করে জাপান সরকার, যা ছিল বিগত ৫০ বছরের ইতিহাসে দেশটির প্রথম বড় ধরনের ভিসা ফি বৃদ্ধি।
জাপান ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি এবং ইয়েনের বিনিময় হারের বড় ধরনের ওঠানামা সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন পিআর আবেদন ফি ২ লাখ ইয়েন (পূর্বে ছিল ১০ হাজার ইয়েন, অর্থাৎ ২০ গুণ বৃদ্ধি)।
নতুন শর্তাবলী উচ্চতর আয়, নিয়মিত পেনশন/কর পরিশোধ ও জাপানি ভাষাজ্ঞান।
মোট বিদেশি বাসিন্দা ৪১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে (ইতিহাসের সর্বোচ্চ, ৯.৫% বৃদ্ধি)।
রাজনৈতিক পটভূমি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির কঠোর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নীতি।
জাপানে অভিবাসন নীতি ও সামাজিক রূপান্তর সবসময়ই একটি অত্যন্ত রাজনৈতিক সংবেদনশীল বিষয়। তবে দেশটির দ্রুত বর্ধনশীল বয়স্ক জনসংখ্যা এবং তীব্র শ্রমিক সংকট দূর করতে টোকিওকে প্রতিনিয়ত বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে অবস্থানরত বিদেশি অধিবাসীর সংখ্যা ৪১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৯.৫ শতাংশ বেশি এবং দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বিদেশি জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সামাজিক পরিবেশ রক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে কট্টরপন্থীদের উদ্বেগ বেড়েছে। গত বছরের অক্টোবরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকারী সানায়ে তাকাইচি (Sanae Takaichi) শুরু থেকেই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাকে তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছেন।