শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না: ত্রিবেদী
‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত গমন ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের কারণে অস্ত্রোপচার সেবা বন্ধ থাকায় সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে রত্না বেগম (৩০) নামের এক প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শুধু রায়পুর নয়, চিকিৎসক ও অ্যানেসথেসিওলজিস্টের অভাবে জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রোপচার সেবা বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক না থাকায় সাধারণ গরিব মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
নিহত রত্না বেগম লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের সিএনজিচালক সাইফুল ইসলামের স্ত্রী। গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতেই এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি। তবে প্রসবের পর গর্ভফুল (প্লাসেন্টা) না বের হওয়ায় তাঁর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, তাঁর জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতালটিতে কোনো সার্জন, গাইনি চিকিৎসক বা অ্যানেসথেসিওলজিস্ট না থাকায় অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়নি। পরে উপায় না পেয়ে ধারদেনা করে অ্যাম্বুলেন্সে করে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হাসপাতালের গেটেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রত্না। দরিদ্র এই পরিবারে নবজাতকটি ছাড়াও ১৩ মাসের আরেকটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার হলেও কেবল চিকিৎসক সংকটের কারণে গত দুই বছর ধরে এর অপারেশন থিয়েটার (ওটি) বন্ধ রয়েছে। অথচ হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার শ বর্গফুটের সাজানো-গোছানো ওটি কক্ষে অস্ত্রোপচারের প্রায় সব আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম মজুত রয়েছে।
একই বেহাল দশা রামগতি ও কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী।
৩১ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে ২০১৯ সাল থেকে অস্ত্রোপচার বন্ধ। ২৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৮ জন। গাইনি, সার্জারি, শিশু, মেডিসিন ও অ্যানেসথেসিওলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কোনো চিকিৎসক নেই।
৩১ শয্যার এই হাসপাতালে ২০২০ সালের নভেম্বরের পর থেকে আর কোনো অস্ত্রোপচার হয়নি। এখানেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তীব্র সংকট রয়েছে।
প্রায় ১০ লাখ জনসংখ্যার এই তিন উপজেলার সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার সেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে বহুদূরের বেসরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামনাশিস মজুমদার জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের কারণে সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না এবং এলাকার অধিকাংশ মানুষ নিম্ন আয়ের হওয়ায় মারাত্মক কষ্টের মুখে পড়ছেন।
অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন বাহারুল আলম জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি নিয়মিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করা হচ্ছে। দ্রুত চিকিৎসক পদায়ন করা গেলে পুনরায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।