হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১১০৮
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৭ এবং নিশ্চিত হামসহ মোট মৃত্যু ১ হাজার ১০৮ জন।
বগুড়া: একসময় হৃদ্রোগের জটিল চিকিৎসার জন্য উত্তরাঞ্চলের রোগীদের প্রধান ভরসা ছিল রাজধানী ঢাকা। তবে সেই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমানে বগুড়াতেই হৃদ্রোগের উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পেসমেকার স্থাপন থেকে শুরু করে বাইপাস সার্জারির মতো জটিল অস্ত্রোপচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা টিএমএসএস হার্ট সেন্টার এই চিকিৎসাসেবায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।
বগুড়া সদরের ঠেঙ্গামারা এলাকায় ২০ তলা বিশিষ্ট টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালের একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে ২০০৫ সালে বহির্বিভাগ চালুর মধ্য দিয়ে টিএমএসএস হার্ট সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়। গত দুই দশকে এটি ক্যাথল্যাব, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি এবং কার্ডিয়াক সার্জারির মতো বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. মজিবর রহমান সেলিম জানান, এ পর্যন্ত হার্ট সেন্টারে ১৭৮টি সফল কার্ডিয়াক সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে ১৭৫ শয্যার এই হার্ট সেন্টারে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৭৭ জন রোগী বহির্বিভাগ থেকে এবং ৩৮ হাজার ৯৩৬ জন ইনডোরে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। ঢাকার তুলনায় প্রায় অর্ধেকে খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় বগুড়া ও আশপাশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীরা এখানে ছুটে আসছেন।
অন্যদিকে, দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের আস্থার প্রতীক সরকারি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগেও প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন শত শত রোগী। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার হৃদ্রোগী এখান থেকে সেবা নিয়েছেন।
তবে ১ হাজার ৬০০ শয্যার এই হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে অনুমোদিত শয্যা মাত্র ৪৫টি হলেও প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হয়। এছাড়া দীর্ঘ দিন ধরে অধ্যাপকের পদ খালি থাকা এবং অপর্যাপ্ত জনবলের কারণে চিকিৎসকদের তিন পালায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। রোগীর অনুপাতে চিকিৎসক ও শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও রোগীরা। উত্তরাঞ্চলের এই চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়লে ঢাকামুখী রোগীর চাপ আরও অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।