টেকনাফ: কক্সবাজারের প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে সুন্নতে খতনা করানোর মাত্র দুই দিনের মাথায় অর্ধশতাধিক শিশুর ক্ষতস্থানে মারাত্মক ইনফেকশন ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটেছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ভুক্তভোগী শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে ছুটে গেছেন উদ্বিগ্ন স্বজনেরা। এর মধ্যে দু’টি শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভিড় জমান ভুক্তভোগী শিশুরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিন দ্বীপের অবকাশ রিসোর্টে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর ব্যানারে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অনুমতি নিয়ে আসা একটি এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ওই দিন ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী মোট ২১০ জন শিশুর খতনা সম্পন্ন করে এবং বিনামূল্যে কিছু ওষুধপত্র দেয়।
তবে খতনা করানোর দুই দিন পার না হতেই শিশুগুলোর ক্ষতস্থানে তীব্র ব্যথা, ফুলে যাওয়া, পুঁজ জমাসহ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অভিভাবদের অভিযোগ, ফ্রি চিকিৎসার কথা বলা হলেও বাস্তবে জনপ্রতি ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এছাড়া নিম্নমানের চিকিৎসা, অপরিকল্পিত সেলাই ও সঠিক ওষুধ না দেওয়ার কারণেই শিশুগুলোর এই করুণ দশা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ক্যাম্প শেষ হওয়ার পরপরই ওই মেডিকেল টিমটি দ্রুত সেন্টমার্টিন দ্বীপ ত্যাগ করে।
সেন্টমার্টিন হাসপাতালের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. শহীদুল ইসলাম জানান, খতনা করানো প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে। অনেকের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও দু’জন শিশুর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় তাদের টেকনাফে রেফার করা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল হক জানান, সেন্টমার্টিনে দুই শতাধিক শিশুর খতনা করার কথা তাঁরা শুনেছেন এবং অনেকে ইনফেকশন নিয়ে চিকিৎসাও নিয়েছেন। তবে দ্বীপটিতে এ ধরনের কোনো মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, খতনা করানোর পর বেশ কিছু শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেডিকেল টিমের কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।