মাহবুবউল আলম হানিফসহ ৪ জনের মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, যেকোনো দিন রায়
জুলাই অভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফসহ ৪ জনের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। যেকোনো দিন রায় দেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আইন সংবাদ।
লঘু অপরাধীদের কারাগারে না পাঠিয়ে আদালতের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে শর্তসাপেক্ষে জীবন সুধরে নেওয়ার আইনি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন ব্যবস্থা। চট্টগ্রামে ২০১৬ সালে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে প্রবেশন কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৫৫১ জন লঘু অপরাধী এই মানবিক সুযোগ গ্রহণ করে স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনে ফিরে এসেছেন। বর্তমানে চট্টগ্রামে দেশের একক কার্যালয় হিসেবে সর্বোচ্চ ৯৯২ জন আসামি প্রবেশন কর্মকর্তার নিবিড় নজরদারিতে রয়েছেন এবং ইতিমধ্যে বিভিন্ন শর্ত সফলভাবে পূরণ করায় ৫৫৯ জন আসামি আদালত থেকে দণ্ড থেকে পূর্ণ মুক্তি লাভ করেছেন। এর ফলে অপরাধীদের সমাজের মূলধারায় রেখে অপরাধমুক্ত করার পাশাপাশি উপচে পড়া কারাগারগুলোর ওপর মানসিক ও আর্থিক চাপ বহুলাংশে হ্রাস পাচ্ছে।
প্রবেশন এমন একটি আধুনিক আইনগত পুনর্বাসন ব্যবস্থা, যেখানে আদালত সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির কারাদণ্ড স্থগিত রেখে তাকে নিজ পরিবার ও সমাজে বসবাসের সুযোগ দেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রবেশন কর্মকর্তা তার আচার-আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন এবং নীতি ও মানবিক শিক্ষাদানের মাধ্যমে সামাজিক পুনর্বাসনে সরাসরি সহায়তা করেন। অপরাধীদের অপরাধের অন্ধকার পথ ছেড়ে স্বাভাবিক ধারায় ফেরার এক উজ্জ্বল নজির স্থাপন করেছেন তৎকালীন এক স্কুলশিক্ষার্থী, যিনি পরবর্তীতে ভুল শুধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পান। প্রবেশনকালীন সময়ে আসামিদের নির্দিষ্ট মেয়াদে ইতিবাচক কিছু সামাজিক শর্ত মেনে চলতে হয়, যার মধ্যে বিনামূল্যে বই পড়া, বৃক্ষরোপণ, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে অংশ নেওয়া, বাবা-মায়ের পরিচর্যা করা, রক্তদান ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মতো বিষয় যুক্ত থাকে।
বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে প্রায় ৪৬ হাজার ধারণক্ষমতার বিপরীতে ৮০ হাজারেরও বেশি বন্দি চিকিৎসাধীন ও সাজা ভোগ করছেন, যার মধ্যে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারেই নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ অর্থাৎ প্রায় ৬ হাজার বন্দি অবস্থান করছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, লঘু অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠালে তারা পেশাদার ডাকাত বা গুরুতর অপরাধীদের সংস্পর্শে এসে আরও বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে এবং কারামুক্তির পর প্রায় ৫২ শতাংশ ব্যক্তি আবারও অপরাধে যুক্ত হয়। ১৯৬০ সালের অপরাধী প্রবেশন অধ্যাদেশ ও শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী, উপযুক্ত ক্ষেত্রে প্রবেশন ব্যবস্থার ব্যাপক প্রয়োগ করা গেলে বিচারিক জট যেমন হ্রাস পাবে, তেমনি বন্দিদের পেছনে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয়ও সাশ্রয় হবে। আইনি অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিতের মাধ্যমে সামাজিক সংস্কারের এই মানবিক হাতিয়ারকে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।