সিরাজগঞ্জ, সলঙ্গা: সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ‘দৈনিক গণমুক্তি’র স্টাফ রিপোর্টার সাঈম সরকারের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের ভূমিদস্যু মর্তুজা ও গোলাম মোস্তফা ওরফে লেংড়া গোলাম গংয়ের হাতে হয়রানি ও হামলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আদালতের রায় পক্ষে থাকা সত্ত্বেও ওই ভূমিদস্যুরা বসতবাড়ী দখলের চেষ্টা ও সাংবাদিকের পরিবারকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
সাংবাদিক সাঈম সরকার জানান, তাঁর বাবার মৃত্যুর পর থেকেই মৃত আব্দুল মজিদ সরকারের ৪ সন্তান জোর-জুলুম করে তাঁদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছে। এই ধারাবাহিকতায়:
২০১৩ সালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালালে সাঈম সরকারের পরিবারের সবাই আহত হন। ওই ঘটনায় মামলা হলেও অভিযুক্তরা ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে স্বাক্ষী প্রমাণ ছাড়াই খালাস পেয়ে যায়।
পরবর্তীতে জমিজমা নিয়ে মামলা হলে মহামান্য আদালত ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের গ্রাম্য আদালত বারবার সাঈম সরকারের পক্ষে রায় দেন। তাদের ক্রয়সূত্রে, নামজারি ও ২০২৮ সাল পর্যন্ত খাজনা-খারিজ সম্পন্ন পরিশোধ রয়েছে। আদালতের রায় অমান্য করেই অভিযুক্তরা আবারও দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
সাঈম সরকার অভিযোগ করেন, সম্প্রতি অভিযুক্তরা ফাঁকা বাড়িতে ২ ট্রাক মাটি ভরাট করে কিছু অংশ দখলের চেষ্টা করলে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (০৩ ডিসেম্বর) করেন।
তিনি জানান, তাঁর ১০ বছর বয়সী শিশু কন্যাকে গোলাম মর্তুজা ও লেংড়া গোলাম গং প্রতিদিন ভয়-ভীতি ও আজে-বাজে কথা বলে আসছে। ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাড়িতে ঢুকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার ফলে তাঁর কন্যা ভয়ে ফাইনাল পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারেনি।
থানায় অভিযোগ করার পর ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ৪ ভাই ও তাদের স্ত্রীসহ ৭/৮ জন দা, ছুরি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সাঈম সরকারকে হত্যা করার পরিকল্পনায় বের হয়। সাঈম সরকার নিজেকে বাঁচাতে পারলেও তাঁর পরিবারের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানোর চেষ্টা হয়। এই বিষয়ে তিনি ৮ ডিসেম্বর থানায় আরেকটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ঢাকার কর্মস্থলে ফিরে আসেন।
তবে সলঙ্গা থানা পুলিশ ১১ ডিসেম্বর সাঈম সরকারকে জানায়, ১০ ডিসেম্বর গোলাম মর্তুজা গং বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধেও একটি কাউন্টার অভিযোগ দায়ের করেছে, যা ৪ দিন আগেই প্রসিকিউশন মামলা হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ দুটির তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন এএসআই রফিক ও মহিদুল ইসলাম।