সিরাজগঞ্জ: কয়েকদিন আগেও সিরাজগঞ্জের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য ছিল উপচে পড়া ভিড় এবং হট্টগোল। লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের আধিক্য আর অনিয়ন্ত্রিত সরবরাহের কারণে পাম্পগুলোতে প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতো। তবে বর্তমানে জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও ‘নো ফুয়েল কার্ড, নো অয়েল’ নীতি চালুর ফলে সেই অস্থিরতা পুরোপুরি কেটে গিয়ে ফিরে এসেছে স্বস্তি।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিটি গাড়ির লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ‘ফুয়েল কার্ড’। কার্ডধারীরা এখন নির্ঝঞ্ঝাটে জেলার নির্ধারিত পাম্পগুলো থেকে তেল সংগ্রহ করছেন। দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বা ধাক্কাধাক্কি করার দিন শেষ হওয়ায় গ্রাহকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পেশাজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই সরকারি এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
পেট্রোল পাম্প মালিকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে পাম্পগুলোতে এখন একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে তারা বর্তমানে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে তেলের সরবরাহ আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়া একটি চলমান কার্যক্রম। যতক্ষণ না পর্যন্ত জেলার প্রতিটি বৈধ যানবাহনকে এই ফুয়েল কার্ডের আওতায় আনা যাচ্ছে, ততক্ষণ কার্ড প্রক্রিয়াকরণ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বর্তমানে পুরোপুরি সচল রয়েছে। এই ডিপোর মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৪টি জেলায় তেল সরবরাহ অব্যাহত আছে, যা এই অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের জন্য সরকার নির্ধারিত বিধি মোতাবেক জ্বালানি সরবরাহ প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।