আইন আদালত

সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেলের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

সাব রেজিস্ট্রার বদলি করে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে যখন মাইকেল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তোরজোর চলছে দুদকে,তখন সেই চক্রের মূলহোতা অভিযুক্ত খিলগাওয়ের সাব রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর অবৈধ সম্পদের পাহাড়ের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে।

তিনি অর্জন করেছেন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার আফতাব নগরেই রয়েছে বিলাস বহুল ভবনে ২৯ টি ফ্ল্যাট। গুলশান-১ এর ৭ নং রোডের ৭ নং কোহিনুর টাওয়ারে তার বর্তমান আবাস্থল । এখানে ২ টি ফ্লোর নিয়ে ডুপলেক্স করে রাজকীয় জীবন তার। অ্যাসিওরেন্স মেহমান এইচ#১৫,আর#৩৬ এখানে ২৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। নিজ জেলার খাস নগর (পূর্ব পাড়া ) বাঞ্চারামপুরে কৃষি জমি ১০০বিঘা। লাহীড়ী, রসুল্লাবাদও নবীনগরে রয়েছে ৩০ বিঘা কৃষি জমি, মাছের ঘের ও খামার।

এছাড়াও,তার নিজ গ্রাম খাল্লাসহ বাড্ডা সলিমগঞ্জ, মাঝিয়ারার জীবন নগরে ২০ একর কৃষি জমিসহ মাছের ঘের ও খামার রয়েছে।

৪০/২ নর্থ এভিনিউ গুলশানে তার ৩টি ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ চলমান। গ্রিন ভিউ এপার্টমেন্ট, এইচ#৩৯, রোড-২৪ লেক সার্কেল গুলশান-১ এ ২৫০০ বর্গ ফুটের একটি ফ্ল্যাট যার মূল্য প্রায় ১২ কোটিরও বেশি। তার স্ত্রী জান্নাত নীলার নামে রয়েছে প্লট ১৪৩, ব্লক এইচ এর পুরো প্লট যার নাম্বার ৬।

নিকেতন এ/১৩৩, ব্লক এ, রোড-৩ ১৮০০ স্কয়ার ফিটের ১ টি ফ্ল্যাট , হাতিরঝিল এর কাছে ৪৮/এ তে রয়েছে ১৫৫০ স্কয়ার ফিট এর ফ্ল্যাট যা তার শ্যালকের নামে।

এছাড়াও গুলশান-১ এর ৩৩ নম্বর রোডের ৬ নম্বর হাউজে রয়েছে ১০ কোটি টাকা মূল্যের ২০০০ বর্গফুট এর ২টি ফ্ল্যাট। এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে ধানমণ্ডি , গুলাশান, নিকুঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে তার কোটি কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট ও প্লট।

ফতাব নগরে নিজের আলাদা বলয় থাকার কারণে বের করা যাচ্ছে না নির্দিষ্ট আরও ফ্ল্যাট এর হোল্ডিং নম্বর।

তবে মাইকেলের ঘনিষ্ট কয়েকজন জানান, এক আফতাব নগরেই তার রয়েছে ২৯টি ফ্ল্যাট, বেশিরভাগ ফ্ল্যাটর মুল্য প্রতি ৫ কোটি টাকার কাছাকাছি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আমলে নন ক্যাডার থেকে সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পাওয়া আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ দলকে ব্যবহার করে ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থের মালিক হন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতেই ঘুষ লেনদেন করে বেশ সমালোচনায় আসেন দেশজুড়ে। এরপর বর্তমানে বিএনপির নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে ব্যাপক চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

তিনি ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বরে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার নিয়োগ দেয়া ২৮তম বিসিএসের নন ক্যডার থেকে সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ পান । তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবে প্রথমবার দলীয় লোকদের নন ক্যাডারে সাব রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ বাগিয়ে নেন তিনি।শুধু নিজের নয়, চাকরির শর্ত পূরণ না করেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ ছাড়াই বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ পান ৯৫ জন। যার মধ্যে প্রশাসন ক্যডারে যোগদান করেন মাইকেলের আপন বোন আসমাউল হুসনা লিজা।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে চিহ্নিত হওয়ার পরও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরে বহাল রয়েছেন তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বানছারামপুরের খাল্লা গ্রামে তার বাড়ি। ঐ এলাকার এমপি ও তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী ক্যপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম তাঁজের সঙ্গে পারিবারিক সখ্যতা থেকে বাগিয়ে নেন দুই ভাই বোনের চাকরি। শুধু চাকরি নয়, চাকরিতে যোগদানের পরে দুজনেই দেশের লোভনীয় পোষ্টিংও বাগিয়ে নেন।

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাথে হাত মিলিয়ে বদলি বাণিজ্যে সফলতা পেয়ে মাইকেল মহিউদ্দিন হয়ে যান সাব-রেজিস্ট্রার জগতের গডফাদার। বিভিন্ন সময়ে আইন মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর সাথে শুরু করেন সাব-রেজিস্ট্রারের বদলী বাণিজ্য। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সাবেক আইন মন্ত্রী আনিসুল হকের বাড়িও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হওয়ায় সহজেই গড়ে তোলেন বদলী বাণিজ্যের সাম্রাজ্য । এতে করে নিজের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে টাকার বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষের সাথে গড়ে তুলেন সখ্যতা । সর্বক্ষেত্রে তার অবৈধ অর্থ উপার্জনের শেল্টারদাতা ছিলেন আনিসুল হক।

তিনি স্বেচ্ছায় আওয়ামী ধরনের সাব রেজিস্টার হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।

নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উচ্চ পর্যায়ের এক দুই জন সাংবাদিকদের সঙ্গে করেন সক্ষতা। এতে সরকারের কোন পর্যায়ের লোকজন তার দিকে আঙ্গুল তুললেই সাংবাদিকদের মাধ্যমে হয়রানি শুরু করেন। সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে রাখেন বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রারদের।

অবৈধ সম্পদের বিষয়ে জানতে মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ, এর আগে গত ১৩ এপ্রিল দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর প্রধান কার্যালয়ে রমজান- মাইকেল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকে অভিযোগ দিয়েছে রাফসান আল আলভী নামের সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। এরপর থেকে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সেখানে তিনি সাব- রেজিস্ট্রার বদলিতে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক চেয়ারম্যানের নিকট অনুরোধ জানান।

সোর্স: বৈশাখী নিউজ

Related News

সরকারি খরচায় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডে ২,৩৮৫ মামলা নিষ্পত্তি

সরকারি খরচায় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ২,৩৮৫টি এবং ৬৪ জেলায় ২ লাখ ৪০ হাজার ৪৭৫টি মামলা নিষ্পত্তি করেছে আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর।

সাজার বদলে প্রবেশন: চট্টগ্রামে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেন ১৫৫১ অপরাধী

চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রবেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সাজার বদলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন ১,৫৫১ জন লঘু অপরাধী।

মাহবুবউল আলম হানিফসহ ৪ জনের মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, যেকোনো দিন রায়

জুলাই অভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফসহ ৪ জনের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। যেকোনো দিন রায় দেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আইন সংবাদ।

হবিগঞ্জের এপিপি মঈনুল হাসান দুলালের নিয়োগ বাতিল করল আইন মন্ত্রণালয়

অনলাইন জুয়া ও নানা অনিয়মের অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মঈনুল হাসান দুলালের নিয়োগ বাতিল করেছে আইন মন্ত্রণালয়। আইন ও আদালত সংবাদ।

রায়ের মন্তব্য নিয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালে দুই আইনজীবী

ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্যের ঘটনায় আদালত অবমাননার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছেন দুই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।

দুই সপ্তাহেই সর্বমহলে আস্থার প্রতীক: নারায়ণগঞ্জে প্রশংসায় ভাসছেন পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান

নারায়ণগঞ্জে যোগদানের মাত্র দুই সপ্তাহে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান ও জনবান্ধব পুলিশিং দিয়ে নজর কেড়েছেন এসপি হাবিবুর রহমান।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের উত্তরপত্র ফাঁসের অভিযোগে তিনজনের ৭ বছরের কারাদণ্ড

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রাক্‌-নির্বাচনী পরীক্ষার উত্তরপত্র ফাঁসের কথা বলে অর্থ আত্মসাতের মামলায় খুলনায় তিনজনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটার উইন্ডোজ ঝুঁকিপূর্ণ দাবি জুনাইদ আহমেদ পলকের

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাসের উইন্ডোজ ঝুঁকিপূর্ণ দাবি সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলকের। অরিজিনাল সফটওয়্যার ব্যবহারের নির্দেশ আদালতের।

Search