ব্রিকসে অংশগ্রহণ ও এসসিওর অংশীদার হতে বাংলাদেশকে চীনের সমর্থন
ব্রিকস (BRICS) এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) অংশীদার সদস্য হওয়ার আবেদনে বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন। একই সঙ্গে দুই দেশ তাদের বিদ্যমান সমন্বিত…
মালয়েশিয়া ও চীনে তাঁর প্রথম দ্বিপাক্ষিক ও রাষ্ট্রীয় সফর সফলভাবে সম্পন্ন করে আজ রাতে দেশে ফিরছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চারদিনের সরকারি চীন সফর শেষে আজ শুক্রবার বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে সপরিবারে রওনা হয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রথম বিদেশ সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে জানান, আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চায়না সাউথার্ন এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ভাবগম্ভীর পরিবেশে বিদায় জানান চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ইউয়ে শিয়াওইয়ং। এ সময় বিমানবন্দরে ঐতিহ্যবাহী লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান গাড়ি থেকে নেমে লালগালিচায় হেঁটে উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিমানে আরোহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক বিদেশ সফরটি শুরু হয়েছিল গত ২১ জুন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে প্রথমে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যান তিনি। সেখানে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার পর গত সোমবার (২২ জুন) রাতে মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দালিয়ানে আয়োজিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন তিনি।
পরবর্তীতে দালিয়ান থেকে বুধবার দুপুরে চীনের ঐতিহ্যবাহী হাই স্পিড বুলেট ট্রেনে চড়ে রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বেইজিং সফরকালে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ বিনিয়োগ সম্মেলনেও প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে চীনা শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই সফল সফরের মধ্য দিয়ে চীনের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আগামীতে আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: বাসস।