আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত দেশটিতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে লড়ছেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধারকাজের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ বা সোনালী সময়, সেই মূল্যবান সময় পার হয়ে যাওয়ার আগেই সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
গত ২৪ জুন (বুধবার) দেশটির উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মধ্যে দ্বিতীয় কম্পনটি ছিল ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী।
ভেনেজুয়েলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ, যাদের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজধানী কারাকাস, লা গুয়াইরা ও এর আশেপাশের এলাকায় শত শত বহুতল ভবন ও ঘরবাড়ি ধসে পড়ায় লাখো মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গ্যাস ও মেট্রো রেল সেবা। বিধ্বস্ত হয়েছে দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও।
এদিকে এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। বৈশ্বিক উদ্ধার তৎপরতার অংশ হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি দল সরাসরি উপদ্রুত এলাকায় উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের একটি অভিযানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই রাজনৈতিক বৈরিতা সরিয়ে রেখে মার্কিন দল কাজ করছে। একই সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জরুরি ত্রাণ দল ভেনেজুয়েলার উদ্দেশে রওনা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার আশ্বাস আসছে।