‘বিশ্বকাপ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে’: ফিফার ওপর ক্ষুব্ধ ফিলিপ লাম
খেলাধুলা ডেস্ক: বিশ্বকাপ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও মন্তব্য করেছেন ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ফিলিপ লাম। সাবেক এই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডিফেন্ডার মনে করেন,…
খেলাধুলা ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অসাধারণ গোল, রোমাঞ্চকর ম্যাচ আর শিরোপা জয়ের গল্পের পাশাপাশি রয়েছে লাল কার্ডেরও নানা রোমাঞ্চকর ও বিতর্কিত অধ্যায়। বিশ্বমঞ্চের দীর্ঘ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখার রেকর্ডটি ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিলের। সেলেসাওদের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে মোট ১১ বার লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
এই তালিকায় ১০টি লাল কার্ড নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা। যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে আছে উরুগুয়ে ও ক্যামেরুন; দুই দলেরই বহিষ্কারের সংখ্যা ৯। এছাড়া জার্মানি, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে ৮ বার করে লাল কার্ড দেখেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্ব ফুটবলের সফলতম দলগুলোকেও বিভিন্ন সময়ে মাঠের শৃঙ্খলাভঙ্গের বড় খেসারত দিতে হয়েছে।
তুরস্কের বিশ্বকাপ ইতিহাসে লাল কার্ডের সংখ্যা মাত্র দুটি হলেও ঘটনাটি বেশ স্মরণীয়। ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে এক ম্যাচেই আলপাই ওজালান এবং হাকান উনসাল—এই দুজনকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। ২-১ গোলের সেই হার তুরস্কের বিশ্বকাপ যাত্রার অন্যতম আলোচিত ম্যাচ হয়ে আছে।
কার্ডের সূচনা ও প্রথম বহিষ্কার: আন্তর্জাতিক ফুটবলে হলুদ ও লাল কার্ডের আনুষ্ঠানিক প্রচলন শুরু হয় ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ থেকে। তবে মজার বিষয় হলো, যে আসরে এই নিয়ম চালু হয়েছিল, সেই টুর্নামেন্টটি শেষ হয়েছিল কোনো লাল কার্ড ছাড়াই। এর আগে ১৯৫০ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও কোনো খেলোয়াড়কে বহিষ্কার করা হয়নি।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম লাল কার্ডটি দেখা যায় ১৯৭৪ সালের পশ্চিম জার্মানি বিশ্বকাপে। চিলির ফরোয়ার্ড কার্লোস কাসেলিকে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে লাল কার্ড দেখিয়ে এই শাস্তির প্রথম প্রয়োগ করেন তুরস্কের রেফারি দোগান বাবাজান। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২২টি বিশ্বকাপে রেফারিরা মোট ১৭৭টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন।
রেকর্ড ও যত বিতর্ক: বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখা গেছে ২০০৬ সালের জার্মানি আসরে। সেই টুর্নামেন্টে রেকর্ড ২৮টি লাল কার্ড দেখানো হয়। ওই বিশ্বকাপেরই পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের শেষ ষোলোর লড়াইটি ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ম্যাচ হিসেবে পরিচিত। ম্যাচটিতে রুশ রেফারি ভ্যালেন্তিন ইভানভ রেকর্ড ৪টি লাল কার্ড দেখান, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ বহিষ্কারের রেকর্ড। সেদিন পর্তুগালের কস্তিনিয়া ও ডেকো এবং নেদারল্যান্ডসের খালিদ বুলাহরুজ ও জিওভান্নি ফন ব্রঙ্কহর্স্ট মাঠ ছাড়েন। উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলায় ভরা ম্যাচটিতে পর্তুগাল ১-০ ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল।
বিশ্বকাপের ফাইনালেও লাল কার্ড দেখার নজির রয়েছে। ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার পেদ্রো মনসন প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালের মঞ্চে লাল কার্ড দেখেন। পরে তাঁর সতীর্থ গুস্তাভো দেজোত্তিও লাল কার্ড পেলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে আন্দ্রেয়াস ব্রেমের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে সেবার শিরোপা নিশ্চিত করেছিল পশ্চিম জার্মানি।