দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন সচল রাখা এবং বিশ্ববাজারের জ্বালানি ও সারের দামের অস্থিরতা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে প্রায় ১.১ বিলিয়ন বা ১১০ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। শুক্রবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে পৃথক দুটি প্রকল্পের অধীনে এই বিশাল অঙ্কের তহবিল অনুমোদনের বিষয়টি এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে জানান, এই অর্থায়নের মূল উদ্দেশ্য হলো ধান চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা এবং জরুরি নাগরিক সেবাগুলো সচল রাখা।
অনুমোদিত তহবিলের মধ্যে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় দেওয়া হচ্ছে ৩০ কোটি ডলার। এই অর্থ দিয়ে চলতি বছরের (২০২৬) জুলাই-অক্টোবরের আমন মৌসুম এবং আগামী বছরের (২০২৭) এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার আমদানি করা হবে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশের মোট সারের চাহিদার সিংহভাগই আমদানিনির্ভর। এই প্রকল্পের আওতায় মূলত ৩ লাখ টন ইউরিয়াসহ মোট ৬ লাখ টন সার আমদানি করা সম্ভব হবে, যা দেশের প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদন সচল রাখতে ক্ষুদ্র কৃষকদের বড় ধরনের সহায়তা দেবে।
অন্যদিকে, ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় বাকি ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের তহবিল দ্রুত ছাড় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ, খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামসহ জরুরি সেবাগুলো সচল রাখতে জ্বালানি খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যেই এই বিশাল অর্থছাড় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।