সম্পাদকীয়

ত্যাগের স্বীকৃতি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতির মনোনয়নে মির্জা ফখরুল ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দলীয় আনুগত্য, রাজপথের ত্যাগ এবং সংকটে নেতৃত্ব দেওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে গণতান্ত্রিক আন্দোলন, রাজপথের সংগ্রাম এবং অসংখ্য প্রতিকূলতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দলের মূল কাণ্ডারি হিসেবে তিনি যেভাবে বিএনপিকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছেন, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে সর্বজনবিদিত।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কেবল একটি দলীয় সিদ্ধান্ত নয়; এটি ত্যাগ, ধৈর্য ও নেতৃত্বের প্রতি এক যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।

আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া কার্যত নিশ্চিত। নির্বাচন কমিশন থেকে দলীয় প্রতিনিধিদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মধ্য দিয়ে যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির ধারায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।

সংসদীয় গণতন্ত্রের রাজনীতিতে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও ত্যাগকে সম্মান জানানো অত্যন্ত জরুরি। মির্জা ফখরুল বিগত ১৭ বছরে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের চরম কঠিন সময় পার করেছেন। মামলা, কারাবাস ও শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও দলের কঠিন সময়ে কোনো আপস না করে দলকে আগলে রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথাগত বলয়ের বাইরে গিয়ে শীর্ষ রাজপথের এক ত্যাগী ও সিনিয়র নেতাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। এটি রাজনৈতিক কর্মী ও নেতৃত্বের মাঝে আনুগত্য এবং ত্যাগের সংস্কৃতিকে সম্মানিত করে।

রাষ্ট্রপতি পদটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়, বরং সমগ্র জাতির প্রতীক। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কেবল নিজের দলের নেতাকর্মীদের কাছেই নন, বরং প্রতিপক্ষ এবং সুশীল সমাজের কাছেও একজন পরিশীলিত, মার্জিত ও কথা বলার শৈলীতে সহনশীল নেতা হিসেবে পরিচিত।

দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর উপস্থিতি সংসদের ভেতর ও বাইরে রাজনীতিতে এক ধরনের স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে সুদৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করতে হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং সুদীর্ঘ রাজনৈতিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন মির্জা ফখরুল বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম ভাবমূর্তিকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন।

ক্ষমতার রাজনীতিতে ত্যাগ ও নিষ্ঠার দৃষ্টান্ত আজকাল বিরল। কঠিন সময়ে দায়িত্ব পালনের পুরস্কারস্বরূপ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে মনোনয়ন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এক ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে বঙ্গভবনে তাঁর উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে—এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাস্ট্রচিন্তক।

Related News

বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল বিপণন নীতিমালা: স্বচ্ছতা, সুস্থ প্রতিযোগিতা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের তাগিদ

‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণন নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া, জ্বালানি বিভাগের ব্যাখ্যা এবং জনস্বার্থ সুরক্ষায় করণীয় নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও জুলাই গণহত্যার বিচারে রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা

২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যার দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি করার প্রয়োজনীয়তা, আইনি প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছ বিচার নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

‘জুলাই ৩৬ জাদুঘর’—ক্ষমতার দম্ভ বনাম ছাত্র-জনতার ইতিহাসের এক জীবন্ত স্মারক : এম. নাজমুল হাসান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক উদ্বোধনকৃত ‘জুলাই ৩৬ গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ (সাবেক গণভবন), ফ্যাসিবাদের ইতিহাস, আয়নাঘর ও ছাত্র-জনতার আন্দোলন নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

দল-মত ভুলে দেশের স্বার্থে জাতির স্বার্থে জুলাইকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে : এম. নাজমুল হাসান

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস, শেখ হাসিনার পতন এবং বর্তমান বাংলাদেশ পুনর্গঠনে দল-মত ভুলে এক হয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

শিক্ষাঙ্গনে সংঘাত বনাম ছাত্ররাজনীতির ঐতিহ্য: কলুষতা রোধে চাই জরুরি পদক্ষেপ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সহিংস সংঘর্ষ, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা এবং ছাত্ররাজনীতির ঐতিহ্য রক্ষায় করণীয় নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

নতুন এটিসি টাওয়ার ও আধুনিক রাডার: আকাশসীমার নিরাপত্তা ও জাতীয় রাজস্বে এক নবদিগন্ত

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন এটিসি টাওয়ার ও অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম চালুর সুফল, আকাশসীমার নিরাপত্তা এবং ফ্লাইং ওভার চার্জে রেকর্ড রাজস্ব আদায় নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা ও মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি : একটি কৌশলগত সমাধান

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির সরকারের প্রস্তাব, এর বাস্তবায়ন কৌশল এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদী গ্যাস সংকট নিরসনে করণীয় নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

সরকার-ব্যবসায়ী যৌথ অংশীদারিত্ব: পাঁচ বছরে অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ

বিডার মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য, আগামী ৫ বছরে অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিতকরণ এবং ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

Search