আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতির ময়দানে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কেবল চুক্তি, বাণিজ্য বা সরকারি নথিপত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সুসময়ের মতো দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর মানবিক বোধের ওপর তা প্রতিষ্ঠিত হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আকস্মিক অসুস্থতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং তাঁর দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক বার্তাটি আন্তর্জাতিক এভিনিউতে তেমনই এক প্রজ্ঞাপূর্ণ ও উষ্ণ কূটনৈতিক সৌহার্দ্যের উজ্জ্বল নিদর্শন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে ‘জাতির একজন অত্যন্ত মূল্যবান বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ও এ দেশের কোটি সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে যে শুভকামনা জানানো হয়েছে, তা ঢাকা-কুয়ালালামপুর সুদীর্ঘ বন্ধুত্বের গভীরতাকেই প্রতিফলিত করে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন অত্যন্ত জোরালো। বিশেষ করে বিগত কয়েক দশকে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য কেবল অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারই হয়ে ওঠেনি, বরং আমাদের দেশের লাখ লাখ শ্রমজীবী ভাই-বোনের কর্মসংস্থান ও জাতীয় অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স প্রবাহের এক অন্যতম প্রধান উৎসস্থল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্বনেতা আনোয়ার ইব্রাহিম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশের প্রতি তাঁর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সর্বজনবিদিত। শ্রমবাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে তাঁর সরকার ধারাবাহিক ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে তাঁর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সাথেও অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।
কূটনীতির ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানদের ব্যক্তিগত স্তরে আন্তঃসম্পর্ক উন্নয়ন ও মানবিক অনুভূতি বিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক মালয়েশিয়ার সরকারপ্রধানের সুস্থতা কামনায় পাঠানো এই বার্তাটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনায় পারস্পরিক মর্যাদা, সহানুভূতি ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃত্ববোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে থাকা এই সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রত্যক্ষ ইতিবাচক প্রভাব পড়ে প্রবাসী শ্রমবাজার এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বিনিয়োগের ওপর। কুয়ালালামপুরের সাথে ঢাকার এই জোরালো সংযোগ মালয়েশিয়ায় কর্মরত লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং নতুন জনশক্তি রপ্তানির পথকে আরও সুগম ও নিরাপদ করতে সাহায্য করবে।
যেকোনো সংকটময় মুহূর্তেই প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় পাওয়া যায়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের অসুস্থতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের এই সংহতি ও মোনাজাত বার্তা দুই দেশের অকৃত্রিম বন্ধুত্বের ধারাকে আরও বেগবান করবে।
আমরাও বাংলাদেশের আপামর জনগণের সাথে সুর মিলিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত সুস্বাস্থ্য ও সম্পূর্ণ আরোগ্য কামনা করছি। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় ও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাস্ট্রচিন্তক।