বাংলাদেশকে ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন সচল রাখা এবং বিশ্ববাজারের জ্বালানি ও সারের দামের অস্থিরতা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে প্রায় ১.১ বিলিয়ন বা ১১০ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি…
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, খাদ্যপণ্য সরবরাহ এবং শিল্প সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৃষিপণ্য, সার, ভোজ্যতেল, ডাল, ছোলা, চিনি, ইউরিয়া এবং পাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে পারস্পরিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
আজ সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তান (টিসিপি)-এর চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দু’দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বর্তমান বাস্তবতায় বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করা জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও যোগাযোগ বাড়ালে দুই দেশের মাঝেই নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, দ্রুত শিল্পায়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম দ্রুততার সাথে এগিয়ে নিচ্ছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের প্রধান আসিম আজিম সিদ্দিকী জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশে উচ্চমানের চাল, ডাল, ছোলা, ইউরিয়া সার ও ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে রপ্তানি করতে বিশেষভাবে আগ্রহী। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের উচ্চমানের পাট ও পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি তথ্য জানিয়ে বলেন, সরকারি পর্যায়ে খাদ্যপণ্য বাণিজ্য সহজ ও গতিশীল করতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তান (টিসিপি)-এর মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে দুই পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল প্রস্তাব করেছে যে, যেসব পণ্য পাকিস্তান থেকে সরাসরি রপ্তানি করা সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী মূল্যে বাংলাদেশে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।
তবে এই সমস্ত প্রক্রিয়াই বাংলাদেশের বিদ্যমান আমদানি নীতিমালা ও আইনগত কাঠামো কঠোরভাবে অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হবে বলে বৈঠকে আশ্বস্ত করা হয়। পরিশেষে, উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রমকে দ্রুত সক্রিয় করা, দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সফর বিনিময় এবং কৃষি ও শিল্পখাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়। সূত্র: বাসস।