চাঁদপুরের কৃতি সন্তান মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন গাজীপুরের নতুন পুলিশ সুপার
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে গাজীপুর জেলার নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তরের সন্তান মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। কুষ্টিয়া, খুলনা ও কুষ্টিয়ায় নতুন পদায়ন।
উত্তরবঙ্গের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নদীভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত কৌশলগত ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর তীরে দুটি নতুন অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বগুড়ার এই দুই উপজেলা যমুনা নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও চলাচলের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই এলাকাগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক বন্দরের মর্যাদা প্রদান উত্তর অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিজ পণ্যের বাজারজাতকরণ এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-যোগাযোগে এক অভূতপূর্ব সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
সরকারি সীমানা অনুযায়ী, সারিয়াকান্দি নদীবন্দরের আওতায় দিঘাপাড়া, কালিতলা, মধুরাপাড়া, জামথল ও সোনাদগা ঘাট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ধুনট নদীবন্দর উত্তরে মধুরাপাড়া থেকে শুরু করে দক্ষিণে সিরাজগঞ্জের সীমান্ত ও ধুনটের বেশাঘীর চর পর্যন্ত বিস্তৃত, যা চন্দনবাইশা ও শাহরাবাড়ি ঘাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলকে সংযুক্ত করেছে।
এই সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ এবং সরকারি তদারকির ফলে অবহেলিত চরাঞ্চল কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে। একই সাথে উত্তর অঞ্চলের স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
উত্তরবঙ্গ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কৃষি উৎপাদনশীল অঞ্চল। ধানের পাশাপাশি শাকসবজি, পাট ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সারা দেশে পরিবহনের জন্য নদীপথ সড়কপথের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। যমুনা নদীর সরাসরি ব্যবহার সহজ হওয়ায় বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর ব্যবসায়ীরা কম খরচে মালামাল আনা-নেওয়া করতে পারবেন, যা স্থানীয় বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে।
অসংগঠিত নৌঘাটগুলোর প্রধান সমস্যা হলো নিরাপত্তাহীনতা ও অবকাঠামোর অভাব। পোর্ট অথরিটির আওতায় আসার ফলে এই ঘাটগুলোতে আধুনিক পন্টুন, ড্রেজিং, যাত্রী ছাউনি ও নিরাপদ নৌযান চলাচলের অবকাঠামো গড়ে উঠবে। এতে চরাঞ্চল ও দূরপাল্লার হাজার হাজার সাধারণ যাত্রীর চলাচলের কষ্ট লাঘব হবে এবং দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে।
বন্দরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে কুলি, পরিবহন শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নৌযান চালকদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। বন্দরের আধুনিকায়নের ফলে আশেপাশের সড়ক যোগাযোগ ও হোটেল-রেস্তোরাঁসহ নানা পরিষেবা খাতের বিকাশ ঘটবে, যা সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার রূপরেখাই বদলে দেবে।
গেজেট প্রকাশ ও নদীবন্দর ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে কেবল ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বন্দরগুলোর প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, যমুনা নদীর নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ড্রেজিং এবং ঘাটের ইজারা ও পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিবিড় তদারকি বজায় থাকলে এই দুই নদীবন্দর বগুড়াসহ পুরো উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাস্ট্রচিন্তক।