সারাদেশ

অভয়নগরে ৩ গ্রামের জমি নিয়ে ঘের বানিয়ে উচ্ছেদের শিকার মাহাবুর

যশোরের অভয়নগর উপজেলার চলিশীয়া উত্তর বিলে তিন গ্রামের শত শত বিঘা জমি, দীর্ঘদিনের সেচসংকট ও স্থানীয় নানা জটিলতা নিরসন করে একটি মাছের ঘের বাস্তবায়ন করেছিলেন চলিশীয়া গ্রামের যুবক মাহাবুর। তবে দীর্ঘ শ্রম, বিনিয়োগ ও ঝুঁকি নিয়ে ঘের তৈরি করার পরই মূল উদ্যোগী মাহাবুরকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করার বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমানে নিজের পাওনা অর্থ ও ন্যায্য অধিকার ফেরত পেতে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে বিচার চেয়ে আবেদন ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভুক্তভোগী মাহাবুর।

সেচসংকট কাটাতে ঘেরের উদ্যোগ ও মাহাবুরের ভূমিকা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলিশীয়া, সরখোলা ও বুইকারা—এই তিন গ্রামের কৃষিজমি নিয়ে গঠিত চলিশীয়া উত্তর বিলে প্রতিবছর সেচ ব্যবস্থাপনার অভাব ও জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে কৃষকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়তেন। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কয়েক বছর আগে বিলটিতে যৌথ উদ্যোগে ঘের তৈরির চিন্তা করা হয়। কিন্তু তিন গ্রামের জমির মালিকদের মধ্যে মতৈক্য না হওয়ায় টানা ৩ বছর বিষয়টি ঝুলে থাকে।

পরবর্তীতে চলিশীয়া গ্রামের হাসান মোল্লা ও খালেদ ফকিরের পরামর্শে ঘের তৈরির কঠিন দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন মাহাবুর। শুরুতে তাঁর দুই ভাই ও শৈশবের বন্ধু রানা সঙ্গে থাকলেও বিরোধ ও ঝামেলার ভয়ে সবাই পিছু হটেন। শেষ পর্যন্ত একাই নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ঘেরটি বাস্তবে রূপ দেন মাহাবুর।

জবরদস্তি মারধর, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ
মাহাবুরের অভিযোগ, ঘেরের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার পরই চিত্র পাল্টে যায়। ৫ আগস্টের পূর্বে জসিমের চায়ের দোকানের সামনে থেকে ৫-৬টি মোটরসাইকেলে আসা একদল লোক তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাঁকে মারধর করে একটি স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে ঘের থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, ঘের তৈরি ও পরিচালনায় তাঁর প্রায় ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ ছিল, যা পরিশোধ না করেই কৌশল ও পেশিবল প্রয়োগ করে তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

চলিশীয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবি ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী জসিম জানান, মাহাবুর একা দিন-রাত কষ্ট করে ঘেরটি দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অন্যায়।

বর্তমান পরিচালকদের দাবি ও তদন্তের প্রয়োজনীয়তা
তবে ঘেরের বর্তমান পরিচালক শরিফুল মোড়ল ভিন্ন দাবি করে জানান, মাহাবুর জমির ডিড করলেও সেগুলো ছিল রানার নামে, মাহাবুরের নামে কোনো লিখিত নথি নেই। অন্যদিকে, অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে অভিযুক্ত রানা সরাসরি কোনো সদুত্তর দেননি।

নিজের শ্রম ও অধিকার ফিরে পেতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাহাবুর। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘেরের জমির ডিড, বিনিয়োগের হিসাব ও জোরপূর্বক নেওয়া স্ট্যাম্পের সত্যতা যাচাই করা হলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পাবেন।

Related News

বরিশালে মা ইলিশ রক্ষায় জনসচেতনতা সভা।

মা ইলিশ রক্ষা ও টেকসই মৎস্য সম্পদ সুনিশ্চিত করতে বরিশালে বিভাগীয় জনসচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর বিচার শেষ না হওয়ায় পরিবারের ক্ষোভ

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ সময়েও চূড়ান্ত রায় কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। বিশেষ সংবাদ।

ডিসেম্বর ঘিরে আ.লীগের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে: ডিবিপ্রধান

ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কোনো নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড বা অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা হলে কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিবিপ্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।

১৭ অক্টোবর খোলা থাকবে সরকারি আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস

শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর টানা তিন দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। তবে ১৭ অক্টোবর শনিবার সরকারি ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে।

পিংক বাসের ধাক্কায় ল্যাম্পপোস্ট ভাঙল, চালকের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা

রাজধানীতে পিংক বাসের ধাক্কায় ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে পড়ার ঘটনায় বাসচালকের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর জাতীয় সংবাদ।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ভয়াবহ আগুন: পুড়লো ২০ দোকান

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হল ও এলপিজি গুদামসহ প্রায় ২০টি দোকান পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

দেশের আট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির পূর্বাভাস

দেশ থেকে বিদায় নিচ্ছে মৌসুমি বায়ু। এর মাঝেই ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

দেশি-বিদেশি ফলের দাম আকাশছোঁয়া, সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে

সিরাজগঞ্জে কমলা ৫৫০, মাল্টা ৫০০ ও আপেল ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে ফল।

Search