ট্রাম্প-হেগসেথের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্যের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস সদস্য ডেলিয়া রামিরেজ।
আন্তর্জাতিক: কিউবার অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং ফিদেল এরনেস্তো কাস্ত্রোর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এ পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় কিউবার নিকেল খনি শিল্পের দুটি কোম্পানি, একটি তেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি খাতের দুটি কোম্পানি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ব্যাংক অব এক্সটেরিয়র দে কিউবা রয়েছে।
এ ছাড়া প্রয়াত কিউবান নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ছেলে ফিদেল এরনেস্তো কাস্ত্রোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কিউবায় এমন একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রব্যবস্থা চলছে, যেখানে সাধারণ মানুষ খাদ্যসংকটে ভুগছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কিউবার সরকারকে পরিবর্তনের লক্ষ্যে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে জ্বালানি অবরোধসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক চাপও রয়েছে।
রুবিওর দাবি, কয়েক দশক ধরে কিউবা সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দমন-পীড়নের কারণে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রয়োজন ছিল। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রে মার্ক্সবাদী মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ট্রাম্প প্রশাসন কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে বলে এর আগে বিভিন্ন বক্তব্যে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় কিউবা সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অর্থনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। জুন মাসে দেশটিতে ১৭৬টি মুক্তবাজার সংস্কার অনুমোদনের পর বৃহস্পতিবার পর্যটন খাতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ কমাতে নতুন একটি ৩৪ পৃষ্ঠার আইনি বিধিমালা ঘোষণা করা হয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করতে পারবে। পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদেশি ব্যাংক হিসাব খোলার প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে।
তবে এসব সংস্কারের মধ্যেও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্রানমাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বা অর্থনীতির জন্য কোনো হুমকি নয়। তাঁর অভিযোগ, কিউবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যা অজুহাত তৈরি করছে।
এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক জুনে সতর্ক করে বলেছিলেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কিউবার সাধারণ মানুষের ওপর। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে চিকিৎসা সামগ্রীর সংকট তৈরি হচ্ছে এবং এতে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।