হারানো অস্ত্র উদ্ধারে দেশব্যাপী বিশেষ যৌথ অভিযান
দেশব্যাপী হারানো ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত। প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে র্যাব। তথ্যদাতার পরিচয় গোপনের ঘোষণা।
ঢাকা: বিদ্যমান জ্বালানি সংকট স্থায়ীভাবে মোকাবিলা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশীয় জ্বালানি খাতের স্বনির্ভরতা অর্জনে দীর্ঘ, মধ্য ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের উত্থাপিত এক আলোচনার জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব কথা জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দ্রুত প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে সচল রাখতে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংকট কমাতে চলতি সপ্তাহেই ৬৬০ মেগাওয়াটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু হচ্ছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় চলতি সপ্তাহ থেকেই কোনো ধরনের ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়া পাঁচটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দেশে বর্তমানে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও উৎপাদন হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার ফলে ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
গ্যাস অনুসন্ধানে অফশোর খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে ২৪ মে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’-এর আওতায় ২৬টি অফশোর ব্লকে (১৫টি গভীর ও ১১টি অগভীর সমুদ্র ব্লক) তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যা আগামী নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে আরও দুটি নতুন রিগ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫১টি কূপ খনন বা ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা রয়েছে; যার মধ্যে ইতিমধ্যে ২৯টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৮টিতে ড্রিলিং চলছে।
পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত দেশের একমাত্র অপরিশোধিত তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান সরকার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, এর দ্বিতীয় ইউনিট চালুর মাধ্যমে বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত করা হবে। এই প্রকল্পে সৌদি আরবের জেদ্দাভিত্তিক ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন করবে, যার চুক্তি গত ৩ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিপ্লব ঘটাতে ছাদ ও ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে শুল্কমুক্ত নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে সরকার। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের পর প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে চোরাচালান রোধে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সমন্বিত জ্বালানি মূল্য ব্যবস্থার কারণে সরকারকে ২৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত আমদানিনির্ভর নীতির বাইরে গিয়ে জ্বালানি খাতে প্রকৃত স্বনির্ভরতা অর্জনই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ এবং একটি কার্যকর জ্বালানি সেল গঠনের আহ্বান জানান। অধিবেশনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি ও সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমানও বক্তব্য দেন।