শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল সমীকরণ কঠিন করল বাংলাদেশ
নারী এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে হেরে সেমিফাইনালের পথ কঠিন করে তুলল বাংলাদেশ। শেষ চারে যেতে হলে আমিরাতের বিপক্ষে জিততেই হবে জ্যোতিদের।
স্পোর্টস: এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে টানা দুই হারে বাংলাদেশের মূল পর্বে ওঠার স্বপ্ন শেষ হওয়ার পরই বাফুফের হাতে চাকরি হারান অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোনস। সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পরদিন গত ৪ সেপ্টেম্বর তাঁর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বরখাস্ত হওয়ার চার দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের বাংলাদেশ অধ্যায় ও নানা চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন এই কোচ।
ফেসবুক পোস্টে জোনস দাবি করেছেন, বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে শুধু পেশাগত সমালোচনাই শুনতে হয়নি, বরং চরম হেনস্তা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি লিখেছেন, “ফুটবলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করা ন্যায্য। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং মেরে ফেলার হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি কিছু অত্যন্ত বাজে বার্তা পেয়েছি, আমার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা হয়েছে এবং মেরে ফেলার হুমকিও পেয়েছি। আমি একজন স্বামী, একজন বাবা এবং একজন সন্তান।”
জোনসকে বরখাস্তের নির্দিষ্ট কোনো কারণ বাফুফে সে সময় আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালেও, বাফুফের একটি সূত্র জানায় যে গত ১৯ আগস্ট টিম হোটেলে সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ধাক্কাধাক্কির ঘটনা এবং মাঠের বাজে পারফরম্যান্সই তাঁকে সরানোর মূল কারণ। সে সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে জোনস নিজেই জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করে পুলিশ ডেকেছিলেন।
বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে নিজের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে জোনস বলেন, তিনি কেবল জাতীয় দলের ফলাফল অর্জনে আসেননি; বরং যুব উন্নয়ন, কোচ তৈরি, প্রতিভা শনাক্তকরণ এবং প্রবাসী খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার বড় পরিকল্পনা তাঁর ছিল। তবে কাজ করার জন্য তিনি মাত্র ৯ সপ্তাহ সময় পেয়েছিলেন, যা প্রতিষ্ঠিত ফুটবল কাঠামোর দলগুলোর সঙ্গে লড়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। অনুশীলনে দল ভালো করলেও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে খেলোয়াড়রা সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেনি বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের ফুটবলের মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে জোনস দেশের খেলোয়াড় ও ফুটবলের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, এ দেশের মানুষের ফুটবলে প্রচুর আবেগ ও প্রতিভা রয়েছে, তবে সঠিক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।