ঢাকা: সরকার ও দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে দলের নাম বিক্রি করে চাঁদাবাজি করা ব্যক্তি ও অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর নির্বাচনি এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা মাদক কারবারির স্থান হবে না।
গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকার কোতোয়ালী থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি নবাববাড়ি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পরিবেশের সুরক্ষায় যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন বলেন, “জনগণের চাওয়া-পাওয়াগুলোকে ধারণ করেই আমাদের সুস্থ ও সঠিক রাজনীতি করতে হবে। ঢাকা-৬ আসনের ১১টি ওয়ার্ডের সব দায়-দায়িত্ব আমার। এখানে ভালো কিছু হলে যেমন আমার সুনাম হয়, তেমনি কোনো ব্যর্থতার গ্লানিও আমাকেই বহন করতে হবে।”
সম্প্রতি সদরঘাটে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে এসব অপরাধীকে চিহ্নিত করে তাদের লাগাম টেনে ধরার। যারা আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে এবং জনগণের কাছে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।”
বিএনপির অবস্থান যে চাঁদাবাজি, মাদক এবং দখলের বিরুদ্ধে—সে কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা সোচ্চার না হলে তা বাস্তবায়ন কঠিন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা কেবল পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠন করিনি। ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিগত ১৭ বছরে দেশের যে ভঙ্গুর পরিস্থিতি ও ধ্বংসস্তূপ তৈরি করেছে, সেখান থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে একটি স্বাধীন, উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেশটিকে গড়ে তুলতে চাই।” দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করতে এখন থেকে নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলে জানান তিনি। হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, দলের কোনো নেতাকর্মীর সঙ্গে সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ফরহাদ রানার সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়া, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল আজিম, যুগ্ম আহ্বায়ক সুরাইয়া বেগমসহ কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।