নেপাল ও তিব্বতে হিমবাহ ধস: বিপর্যয়ের আগে ছিল নজিরবিহীন তাপমাত্রা
নেপাল ও তিব্বতে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টিকারী হিমবাহ ধসের আগে ওই অঞ্চলে নজিরবিহীন তাপমাত্রা বিরাজ করছিল বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে শঙ্কা।
আন্তর্জাতিক: হিন্দু ধর্মীয় একটি সংগঠনের বেসরকারি পরিদর্শনের সময় নারী কর্মীদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখার গুরুতর অভিযোগে কর্মীরা আকস্মিক ধর্মঘট পালন করেছেন। এর ফলে ফ্রান্সের বিশ্বখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র আইফেল টাওয়ার গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে টাওয়ারটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।
বচাসানবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা (বিএপিএস) নামের বিশ্বব্যাপী পরিচিত একটি হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের বেসরকারি পরিদর্শনের পরই এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ ওঠে, ওই সংগঠনের পরিদর্শনের সময় আইফেল টাওয়ারের নারী কর্মীদের নির্দিষ্ট স্থান থেকে সরে যেতে বলা হয় এবং তাঁদের পরিবর্তে পুরুষ কর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়। এই ঘটনার পর টাওয়ারের শ্রমিক ইউনিয়ন তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং ফরাসি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত হিন্দু সংগঠনটি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।
আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, বিএপিএস সংগঠনটি গত শনিবারের (৫ সেপ্টেম্বর) পরিদর্শনের সময় নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখার একটি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরনের শর্ত তাদের কখনোই মেনে নেওয়া উচিত হয়নি।
জানা গেছে, বিএপিএস-এর সাধুরা কঠোর ধর্মীয় নিয়ম মেনে চলেন, যার অংশ হিসেবে তাঁরা নারীদের সঙ্গে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখেন এবং বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে ন্যূনতম ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা মেলামেশা এড়িয়ে চলেন। তবে সংগঠনের সাধারণ অনুসারীরা এই নিয়মের আওতাভুক্ত নন। সম্প্রতি আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে আসা প্রতিনিধিদলে সাধু ও সাধারণ অনুসারী—উভয় পক্ষই উপস্থিত ছিলেন।
লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে নারী কর্মীদের হঠাৎ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং তাদের অসম্মানজনকভাবে দূরে রাখার ঘটনায় টাওয়ারের কর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্যারিস প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হবে।
১৯০৭ সালে ভারতে প্রতিষ্ঠিত বিএপিএস বিভিন্ন দেশে মন্দির পরিচালনা করে থাকে এবং প্যারিসে তাদের একটি মন্দির রয়েছে। ঘটনার পর বিএপিএস-এর প্যারিস শাখা থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তারা কাউকে আইফেল টাওয়ারে প্রবেশে বাধা দেয়নি। তবে এই ঘটনায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকলে তারা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাচ্ছেন।
এদিকে, নারীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনায় ফ্রান্সের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফরাসি নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ফ্রান্সে নারী-পুরুষের সমতা একটি মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। কোনো ধর্মীয় নিয়ম বা মতাদর্শের অজুহাতে ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মাটিতে নারীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা বা তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব থেকে পিছু হটতে বাধ্য করা কস্মিনকালেও বরদাশত করা হবে না।
উল্লেখ্য, বিএপিএস অতীতেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিতর্কের মুখে পড়েছিল। এর মধ্যে ১৯৬৬ সালের আইনি লড়াই, ২০১৩ সালে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মন্দিরে শ্রমিকদের কম মজুরিতে অতিরিক্ত পরিশ্রমে বাধ্য করার অভিযোগে দায়ের হওয়া দেওয়ানি মামলা অন্যতম।