ঢাকা: বিএনপি সরকারের সময়ের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানকে রাজনৈতিক হয়রানি, ভয় দেখানো এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি অভিযোগ করেছেন, ফ্যাসিবাদের আমলের মতো আবারও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের উদ্দেশ্যে দুদককে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পদায়ন ও বদলি-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে দুদকে দায়ের করা সাম্প্রতিক অভিযোগ এবং দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, “দুদকের মুখপাত্র প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রথমে প্রাথমিক তদন্তের কথা বললেও পরে তা সংশোধন করতে বলেন। তবে এর মধ্যেই সব মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার হয়ে আমার মানহানি করা হয়েছে। আমি ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, যে নির্দিষ্ট ইস্যু বা ঘটনার ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে, তা মূলত বিএনপি সরকারের আমলের। আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, “বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বা আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ, বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় দুই মাস আগেই আমি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। আমি গত বছরের ১০ ডিসেম্বর (২০২৫) পদত্যাগপত্র দিয়েছি এবং ১১ ডিসেম্বর তা গৃহিত হয়েছে। সামান্য তারিখগুলো যাচাই করলেই বোঝা যেত যে আমার বিরুদ্ধে এই অনুসন্ধান করার কোনো আইনি সুযোগই ছিল না।”
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুদকের একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করা হয়েছিল এবং দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকার এসে সেই অধ্যাদেশ বাতিল করে দিয়েছে। এর ফলে আবারও দলীয় কায়দায় দুদক গঠিত হয়েছে এবং সেই দুদক পূর্বের ন্যায় রাজনৈতিক কায়দায় পরিচালিত হচ্ছে।”
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে হয়রানি করার লক্ষ্যেই এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমি মনে করছি, এটি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে আমার বিরুদ্ধে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করার চক্রান্ত।”
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং গণমাধ্যম উপকমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।